• ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

হামাস কেন প্রথমে হামলা করেছিল?

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত অক্টোবর ১১, ২০২৩
হামাস কেন প্রথমে হামলা করেছিল?

৭ই অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইজরায়েলে প্রথম রকেট হামলা করেছিল কেন? সামর্থে সমান নয় জেনেও কেন তাঁরা ওই রাষ্ট্রের সাথে লড়তে যায়?

সীরাতের পাঠকরা জানেন যে, বদর যুদ্ধ মক্কার কাফিররা শুরু করেনি। রাসূল ﷺ নিজেই শুরু করেছিলেন। মদীনায় আসার পর, ২য় হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে কুরাইশদের একটি কাফেলাকে আটকানোর জন্য রাসূল ﷺ দুইশজন সাহাবি নিয়ে বুআছ এলাকায় গিয়েছিলেন। একই সময়ে প্রায় ৭০ জন সাহাবি আবওয়া এলাকায় একটি অভিযান করেছিলেন। জুমাদুল উলা মাসে আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বাধীন সিরিয়াগামী একটি ব্যবসায়ী কাফেলাকে আটকানোর জন্য সাহাবিরা যুল উশাইরা নামক এলাকায় অভিযান করেছিলেন। কিন্তু তখন ওই অভিযান সফল হয়নি। রজব মাসে আবদুল্লাহ ইবন জাহাশ (রা.) এর নেতৃত্বে ওয়াদিয়ে নাখলা এলাকায় একটি সফল অভিযান হয়েছিল। ওই পথে মক্কাবাসী ইয়ামেনের সাথে ব্যবসা করত। আবু সুফিয়ানের কাফেলা সিরিয়া থেকে ফেরার সময় তাদের আটকানোর জন্য রাসূল ﷺ রামাদান মাসে ৩১৩ জন সাহাবি নিয়ে বের হয়েছিলেন এবং ওই অভিযানই বদর যুদ্ধে পরিণত হয়েছিল। মুসলমানদের আগমনের বার্তা পেয়ে আবু জাহল এক হাজার সৈন্য নিয়ে বদর প্রান্তরে হাজির হয়েছিল। এই হচ্ছে বদর যুদ্ধের ঘটনাক্রম।

এবার দুটি সিচুয়েশনকে একত্রে প্রশ্ন করুন। কেন হামাস প্রথমে হামলা করেছিল? কেন রাসূল ﷺ বদর যুদ্ধ শুরু করেছিলেন?

কিন্তু প্রশ্ন তো আরও গভীরে। মক্কার বাসিন্দাদেরকে মক্কা ছেড়ে মদীনায় আসতে হয়েছিল কেন? কেন শহীদ হয়েছিলেন সুমাইয়া ও ইয়াসির? কেন রক্ত ঝরেছিল আম্মার, বিলাল, খাব্বাব, ইবন মাসউদের? কেন মুসলমানদেরকে আবিসিনিয়া হিজরত করতে হয়েছিল? কেন উটের পঁচা নাড়িভুড়ি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল আমার নবীর ওপর? কেন তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, বাধ্য করা হয়েছিল মক্কা ত্যাগ করতে? কেন হিজরতের সময় বহু সাহাবির ধন সম্পদ মক্কাবাসী কেড়ে রেখেছিল?

একইভাবে, কেন ফিলাস্তিনের বাসিন্দাদেরকে গত ৮০ বছর ধরে নিজদেশে পরবাসী করে রাখা হয়েছে? কেন প্রতিনিয়ত হত্যা করা হচ্ছে হাজারো মুসলমানকে? কেন তাঁরা ওই ইজরায়েলের কারাগারে বন্দী? কেন পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণ হচ্ছে? গাজা কেন অবরুদ্ধ? কেন বিশ্ব ফিলাস্তিনের ক্ষেত্রে একচোখা?

War এবং Battle এক জিনিস নয়। Battle একদিনে হয়। যেমন, Battle of Badr, যা হয়েছিল ২য় হিজরির ১৭ই রামাদান। কিন্তু কুরাইশ ও মুসলিমদের মধ্যে War তথা যুদ্ধাবস্থা চলছিল এর বহু আগ থেকে এবং সেই যুদ্ধাবস্থা শুরু করেছিল মক্কাবাসী। এভাবে, ফিলাস্তিনে চলমান Battle শুরু হয়েছে ৭ই অক্টোবর, হামাসের রকেট হামলার মাধ্যমে। কিন্তু ফিলাস্তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে যায়নিস্টদের যুদ্ধাবস্থা চলে আসছে গত শতকের ৩০’র দশক থেকে এবং এই যুদ্ধাবস্থা শুরু করেছিল ব্রিটিশ ও ইহুদিরা। তাই শতাব্দীব্যাপী চলমান অত্যাচারের প্রতিবাদে ফিলাস্তিনিদের একদিনের হামলাকে কেন্দ্র করে যারা তাঁদেরকে দোষারোপ করছেন, তাঁরা বদর যুদ্ধ এবং এর ৬ মাস আগ থেকে রাসূল ﷺ এর কার্যক্রমকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? অনেকে বলেন, হামাস কেন নিরপরাধ ইহুদিদের হত্যা করছে? আমি আপনারে জিজ্ঞাসি, অন্যের দেশ জোরপূর্বক দখল করে রাখা লোকেরা নিরপরাধ হয় কীভাবে? ফিলাস্তিনিদের ওপর গত ৮০ বছরের অবর্ণনীয় অত্যাচার কীভাবে ভুলে যান আপনারা?

পশ্চিমাদের দেখাদেখি আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রও ইজরায়েলের সব অত্যাচারকে সমর্থন করছে। কারণ একটিই, মুসলমানদের প্রতি তীব্র ঘৃণা! অনেক পণ্ডিতকেও হামাসকে ‘সন্ত্রাসী’ বলতে শুনি! আশ্চর্য লাগে! এরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, ভাগাত সিং, রাজগুরু, চন্দ্রশেখর আজাদ, রামপ্রকাশ বিসমিল, আশফাকুল্লাহ খান প্রমুখের কর্মকাণ্ডকে কীভাবে দেখে? ওরা সন্ত্রাসী ছিল নাকি বিপ্লবী? ওরা বিপ্লবী হলে হামাস সন্ত্রাসী হয় কীভাবে?

কেউ কেউ বলছেন, ফিলাস্তিনিরা যুদ্ধ বাদ দিয়ে বিজ্ঞান পড়লে নাকি এতদিনে মঙ্গল গ্রহে চলে যেত! যাদের মানুষ হয়ে বাঁচার অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁরা তাদের আত্মসম্মান, পরিবার, বাসস্থান সব ছেড়েছুড়ে মঙ্গল গ্রহে গিয়ে করবেটা কী? অনেকে আবার আপোস-মীমাংসা করে শান্তির সবক দিচ্ছেন। তো, এত বছর ধরে আপোসে কী সমাধান হলো? ফিলাস্তিনিরা কার সাথে আপোস করবে? যারা তাদের ঘর, পরিবার, জীবন, সম্মান সব কেড়ে নিয়েছে, তাদের সাথে? বসে কী লাভ হবে?

আমরা আমাদের ফিলাস্তিনি ভাইদেরকে শতভাগ সমর্থন করি। আমাদের সমর্থনে কী যায়-আসে, তা ভাবার ইচ্ছা নাই। কিন্তু এটি জানি, এরা আমাদের ভাই। যুদ্ধে-শান্তিতে, জয়ে-পরাজয়ে, জীবনে-মৃত্যুতে এরা আমাদের ভাই। এরা আমাদের ভাই।

We Stand in Solidarity with Our Brothers, any day.

লেখকঃ মারজান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী