• ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

দোয়ারাবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আদর ও পুলকের আলাদা আলাদা লিখিত অভিযোগ

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত আগস্ট ২১, ২০২৩
দোয়ারাবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আদর ও পুলকের আলাদা আলাদা লিখিত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জানা যায়,ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটির সদস্য মাহমুদুল আদর হাসান নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ পেশ করেন এতে তিনি বলেন,

“বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী মাহমুদুল হাসান, পিতা: মৃত আব্দুল করিম,আমি ,নরসিংপুর ইউনিয়ন উপজেলা দোয়ারাবাজার এবং দোয়ারা বাজার উপজেলা ছাত্রলীগের একজন সদস্য। আপনার সদয় অবগতির জন্য জানোনা যাচ্ছে যে,*জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগষ্ট ২০২৩ দোয়ারাবাজার সরকারী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে দোয়ারাবাজার সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ জনাব একরামুল হক সাহেব সভাপতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। উনার উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা কেক কেটে, রং খেলে এবং নাচগানের মাধ্যমে বিদায় সংবর্ধনা উদযাপন করে। উনি এ বিষয়ে কোন প্রতিবাদ বা হস্তক্ষেপ না করে নিরবতা পালন করেন। এ থেকে প্রতিয়মান হয় যে, উক্ত কেক কাটা, রং খেলা এবং নাচগানে উনার মৌন এবং প্রকাশ্য সম্মতি ছিল। জাতীয় শোক দিবসের দিনে এমন হেয় কর্মকান্ডে এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভ বিরাজমান ।

অতএব মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন এই যে, জনাব একরামুল হক কর্তৃক জাতীয় শোক দিবসের দিনে কেক কাটা, রং খেলা এবং নাচগানের অনুমতি দেওয়া এবং বাধা প্রদান না করার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে জনাব একরামুল হক সাহেবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি”।

তাঁর অভিযোগ পত্রে ইউএনও মহোদয় “পাইয়াছি বলে” বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং অভিযোগকারীকে আশ্বস্ত করেছেন শীঘ্রই তিনি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

২য় অভিযোগ পত্রে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সাধারণ সম্পাদক লিখেন,

“বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী রুহুল ফেরদৌস পুলক, পিতা: প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম, গ্রাম: লাস্তবেরগাঁও, ইউপি: নরসিংপুর, উপজেলা: দোয়ারাবাজার, জেলা সুনামগঞ্জ। আপনার সদয় অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা জনাব মুহিবুর রহমান মানিক মহোদয়ের উদ্যোগে ও প্রতিশ্রুতি অনুসারে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় উপজেলা পরিষদের সকল সম্মানিত সদস্যগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সকল কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের সকল সম্মানিত চেয়ারম্যানগণের সর্বসম্মতিক্রমে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দোয়ারাবাজার উপজেলার তিনজন বীর প্রতীক যথাক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম বীর প্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ বীর প্রতীক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন ও দুই বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে চিকিৎসা সেবা দানকারী গেজেটভূক্ত চিকিৎসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম (এমবিবিএস) উক্ত সম্মানিত ব্যক্তিগনের নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নামকরণ রেজুলেশন পাশ করা হয়। মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা জনাব মুহিবুর রহমান মানিক মহোদয়ের প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ঘিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজের নবনির্মিত চারতলা ভবনের নামকরণ করা হয় “বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম ভবন”।

দুঃখের বিষয় গত ২৪শে ফেব্রুয়ারী ২০২৩ রাতের আধারে কিছু কুচক্রি মহলের ইন্দনে নামফলকের উপর রং লেপন করা হয়। ২৫ফেব্রুয়ারী ২০২৩ সকালে উক্ত হীনমন্য কর্মকান্ড মানুষের নজরে পড়লে ইউনিয়নবাসী সহ দেশ- বিদেশের মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় এবং এলাকাজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা জনাব মুহিবুর রহমান মানিক মহোদয়ের তাৎক্ষনিক নির্দেশে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দুস্কৃতিকারীদের গ্রেফতারে আশ্বাস দেন। প্রশাসনের তৎপরতায় কুচক্রি মহল ঘা ঢাকা দেয়। বিগত ১৩ আগস্ট ২০২৩ নরসিংপুর ইউনিয়নের সেবা ফাউন্ডেশনের এর ব্যানারে গুনীজন সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দোয়ারাবাজার ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হক সাহেব বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের নামে ভবন নামকরনের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ঘিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজের বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম ভবনের নামকরণ মুছে ফেলতে এলাকার যুব সমাজকে কুপ্ররোচনা দেন যা একজন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একজন দেশপ্রেমিক জনপ্রতিনিধির জন্য মানহানীকর। উনার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। যেহেতু উপজেলা পরিষদের সদস্যগণ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহ সকল সদস্যগণের সর্বসম্মতিক্রমে নামকরণ বিষয়ে রেজুলেশন করা হয়েছিল, সেহেতু উনার বক্তব্য সর্বসম্মতির বিরুদ্ধাচরণ এবং সরকারী কর্মকান্ড বিরোধী। উনার বিতর্কিত মন্তব্যে এলাকাবাসীর মনে চাপা ক্ষোভ বিরাজমান। উনার বক্তব্য এবং পূর্বে নামকরণের উপর রং লেপনের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাঁর লিখিত উপরিউক্ত অভিযোগ গ্রহন করেন এবং একইভাবে আশ্বস্ত করেছেন তিনি এই ব্যপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করিবেন।