• ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে নরসিংদীর ৯ যুবক নিখোঁজ

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০২৩
ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে নরসিংদীর ৯ যুবক নিখোঁজ

 

বিবিএন ডেস্ক:দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্র পথে ইতালি যাওয়ার সময় নরসিংদীর ৯ যুবক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। তারা প্রত্যেকেই নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বাসিন্দা।

নিখোঁজ ৯ যুবক হলেন, নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাঙ্গালিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মোখলেছুর রহমান (২০), একই এলাকার মৃত হাছেন আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন কামাল হেসেন (৩৪), ভাটের গ্রামের হাসান উদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানা (২২), দুলালকান্দি গ্রামের হারুন রশীদ রশিদের ছেলে মনির হোসেন (২২), একই এলাকার আ. মোতালিব মিয়ার ছেলে রবিউল (৩৩), টান লক্ষ্মীপুর গ্রামের মহরম আলীর ছেলে স্বাধীন মিয়া (২০) ও নিলক্ষিয়া গ্রামের আমান মিয়া (২১), দুলালকান্দি গ্রামের রায়হান, দেওয়ানেরচর গ্রামের আলমাছ আলীর ছেলে ইমন (২০)।

নিখোঁজদের স্বজনরা জানান, ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে দুলাল কান্দি গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন, নুর কাসেম ও তার স্ত্রী শাহিনুরের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ে।

শুক্রবার (১১ আগস্ট) সকালে নিখোঁজ কামাল মিয়ার ছোট ভাই জামাল মিয়া জানান, ৫-৬ মাস আগে আমার ভাইকে ১২ লক্ষ টাকার চুক্তিতে ইতালির উদ্দেশে প্রথমে লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। বেশ কিছুদিন সেখানে রেখে গত বুধবার রাত ৮টায় ট্রলারে তুলে ইতালির পথে যাত্রা করে। কিন্তু ৪০ মিনিট পর ডিঙি ডুবে যায়। জাকিরের তত্ত্বাবধানে থাকা ২০ থেকে ১২ জন ফিরে আসলেও ৯ জন নিখোঁজ রয়ে যায়। এ তথ্য দালাল জাকির হোসেন স্থানীয় মিলন মেম্বারের মাধ্যমে সংবাদ কর্মীদের জানান।

নিখোঁজ রবিউলের ভাই ইব্রাহিম বলেন, আমার ভাই আট মাস আগে লিবিয়া গিয়েছিল ভৈরবের দালাল রবিউল্লার মাধ্যমে। কিন্তু সেখানে ভাইকে বৈধ কোনো কাগজ করে দেয়নি। দুলালকান্দির দালাল জাকির হোসেন ইতালি যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে ৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এখন আমার ভাই নিখোঁজ। আমরা আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।

রবিউলের স্ত্রী সাথী আক্তার জানান, আজ থেকে ১৭ দিন আগে আমার স্বামীর সাথে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন আমার জন্য দোয়া করো। আমরা এখন গেম ঘরে আছি। আগামী বুধবারে ডিঙিতে তুলবে। এ কথা বলে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে দুলালকান্দি গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মিলন জানান, আমি খবর পেয়ে জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। ফোন দিলে মোবাইল অন্য একজন রিসিভ করে আমাকে জানান, জাকির হোসেনের আন্ডারে ২০ জনের থেকে ১২ জন উদ্ধার হলেও ৯ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এদিকে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হওয়ার খবরে দালাল জাকির হোসেন ও শাহিনুরের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেলাব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তানভীর আহমেদ বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে এবং লোকমুখে শুনেছি। এখনও কোনো অভিযোগ আসেনি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা জান্নাত তাহেরা বলেন, নিখোঁজের সংবাদ লোক মুখে শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। নিখোঁজের বিষয় জানতে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।