• ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

রাঙামাটির বুকে এক টুকরো কাশ্মীর,এলজিইডি’র ছোঁয়ায় গড়ে ওঠে এমন চিত্র

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২৩
রাঙামাটির বুকে এক টুকরো কাশ্মীর,এলজিইডি’র ছোঁয়ায় গড়ে ওঠে এমন চিত্র

 

|| মুহাম্মদ ইলিয়াস-২৫ মে,রাঙামাটি ||

রাঙামাটির আাসামবস্তী-কাপ্তাই সড়কের বড়াদম যেন, পাহাড়ের বুকে এক চিলতে কাশ্মীর। এলজিইডি’র ছোঁয়ায় গড়ে ওঠে এমন চিত্র। প্রতিষ্ঠানটির ১৮ কি:মি: সড়ক ও তিনটি ব্রিজ এখানকার মানুষের জীবনযাত্রাই বদলে দিয়েছে। পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাওয়ায় একের পর এক হোটেল মোটেল রিসোর্ট তৈরি হচ্ছে। গড়ে তুলছে সরকারী বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জেলা পর্যায়ের দপ্তর।

পাহাড়ের বুক ছিঁড়ে বা কোথাও ঢালু বেয়ে আঁকা-বাঁকা
সর্পিল নির্মিত সড়ক ও ব্রিজগুলো রাঙামাটিবাসীর জীবন মানে আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যারও সমাধান হয়েছে। ব্রিজ ও সড়কের দু’পাশে উঁচু-নিচু পাহাড় বাড়িয়েছে নান্দনিক সৌন্দর্য। কোন কোন স্থানে পর্যটন সম্ভাবনাও বেড়ে গেছে। রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কের দু’পাশের বন-পাহাড় দেখে মুগ্ধ দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও । উন্নত বিশ্বের আদলে পাহাড়ের সাথে পাহাড়ের সংযোগ ব্রিজ ও সড়ক উন্নয়নের এই অসাধ্য সাধন করেছে রাঙামাটি জেলা এলজিইডি।

কাপ্তাই হ্রদের পাড় ধরে বন-পাহাড়ে মাঝ দিয়ে গড়া আসামবস্তী-কাপ্তাই সংযোগের ১৮ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই দৃষ্টিনন্দন। প্রকৃতির মাঝে মানব সৃষ্ট এ সড়কটির আকর্ষণ আবেদন দিন দিন বাড়ছে। বেড়েছে সুবিশাল নীল জলরাশির কাপ্তাই হ্রদের অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগের সুযোগও । তাই পাহাড়ের বুক ভেদ করে সূর্য উদয় এবং সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য দেখতে সকাল ও সন্ধ্যায় ভ্রমণ পিপাসুদের ভীড় লেগেই থেকে। রাঙামাটি সদর উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালের প্রলয়ঙ্কারী পাহাড় ধ্বসের কারণে এই সড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যামবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা এ সড়কটিকে বর্তমান রূপে ফিরিয়ে আনার মতো অসাধ্য সাধন করে রাঙামাটি এলজিইডি। প্রকৃতি ও পরিবেশকে অক্ষত রেখে এখানে নতুনভাবে তিনটি স্লাববেইজড ব্রিজ তৈরিসহ দু’লেনে উন্নীত করা হয়েছে। এলজিইডি’র নিজস্ব নক্সায় বাস্তবায়িত এইসব ব্রিজের ফলে পরিবেশ থাকবে অক্ষত।

সড়কের দুপাশে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাবিপ্রবি (রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)সহ গড়ে তোলা নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র ও রিসোর্টে যাতায়াতকারী এবং উপজাতীয় গ্রামগুলোর বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবে। পার্বত্যাঞ্চলের প্রয়াত শীর্ষ ধর্মগুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের জন্মস্থান, স্মৃতিস্তম্ভ, সুউচ্চ পাহাড় বেষ্টিত নিকস কালো জলের পাহাড়ি ঘোনা, বড়াদম বৌদ্ধ বিহার, খাড়া পাথুরে পাহাড়, গুহা ও দৃষ্টিনন্দন বন- পাহাড় চোখে পড়ে এ সড়ক পথে গেলেই।

এই সড়কটি চালু হওয়ায় ঝুম চাষ নির্ভর অর্থনীতিও বেশ চাঙ্গা হয়ে ওঠছে। স্থানীয়দের উৎপাদিত কৃষি পণ্য, বাঁশ, কাঠ ও মাছ বিপননের জন্য কাঁধে বহন ও দু’ঘন্টার নদী পথ পেরোনোর মতো মহা বিড়ম্বনার দিনও শেষ হয়ে গেছে। আবার রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই হয়ে চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগেও কমেছে ২০ কি:মি: পথ।

পাহাড় না চড়েই পাহাড় ভ্রমণের দূর্লভ সুযোগ ও সাধ ভোগ করতে দূরদূরান্তর থেকে পর্যটকরা ছুটে আসে। আকর্ষণ বাড়াতে ও আত্মহত্যাকারী প্রেমিক যুগলের স্মৃতি ধরে রাখতে তৈরি করা হয়েছে “লাভ পয়েন্ট”। প্রশাসন যদি পর্যটক বান্ধব হয়, তাহলে এখান থেকেই কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা প্রচুর। যা নি:সন্দেহে রাঙামাটির অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করবে।

রাঙামাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি বলেন, রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই যাওয়ার জন্য এটি হচ্ছে একটি বিকল্প সড়ক। এই সড়কটি নির্মাণের ফলে রাঙামাটি- কাপ্তাইয়ের যোগাযোগেও পরিবর্তন এসেছে। দূরত্ব কমেছে প্রায় ২০ কি:মি। পর্যটকরা একই স্থান থেকে হ্রদ-পাহাড়ের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন। সড়কটিকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠছে। যা রাঙামাটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে যোগ করেন এ কর্মকর্তা।