• ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

টাঙ্গুয়ার হাওরে ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ নিয়ে মত বিরোধ

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৩
টাঙ্গুয়ার হাওরে ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ নিয়ে মত বিরোধ

লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার রামসার সাইট খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরে ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ নিয়ে মত বিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ বলছে এখানে বাঁধ নির্মাণ অপ্রয়োজনীয় আবার আরেক পক্ষ বলছে বাঁধ নির্মাণ না করলে ফসল হুমকির সম্মুখিন।
জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের মতে টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট , মাদার ফিসারিজ হিসেবে খ্যাত।  এই হাওরে ফসল রক্ষাবাঁধের কাজ করলে হাওরের জীব বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাবে। সরকারের ও নির্দেশনা রয়েছে এখানে কোন বাঁধ নির্মাণ না করার।  অন্যান্য হাওর কে ঝুঁকিমুক্ত রাখতেও অতীতে কোন  বাঁধ নির্মাণ করা হয় নি। এছাড়াও  সীমান্ত বর্তী ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলের পানির জলাধার হিসেবে এটিকে ধরা হয়। কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং জেলা কমিটি ও কারিগরি কমিটির সভায় ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরে বাঁধ নির্মাণ না করার।  সম্প্রতি জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগ ও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ টাঙ্গুয়ার হাওর পরিদর্শন শেষে অভিমত প্রকাশ করেছেন এখানে আদৌ কোন বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন নেই।  বিগত দিনেও বাঁধ নির্মাণ হয়নি। এটি রামসার সাইট ও মাদার ফিসারিজ খ্যাত এটি সংরক্ষিত। সরকারের ও নির্দেশনা রয়েছে বাঁধ নির্মাণ না করার।  এটি ফসলের হাওর নয়। অপরদিকে একটি পক্ষ টাঙ্গুয়ার হাওরের নজর খালীতে বাঁধ নির্মাণের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের দাবী এখানে বাঁধ নির্মাণ না করলে কয়েক হাজার হেক্টর ফসল অরক্ষিত থাকবে। গত বছর এভাবে কিছু মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে নজর খালীতে বাঁধ নির্মাণ করলে বাঁধ টি প্রথমেই ভেঙ্গে যায়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ মন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম সহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ টাঙ্গুয়ার হাওরের নজর খালী বাঁধ পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে মত বিনিময়ের সময় ও বাঁধ নির্মাণ করা না করা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
সুনামগঞ্জ জেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান জানান, অতীতে কোন দিনই টাঙ্গুয়ার হাওরে ফসল রক্ষাবাঁধের কাজ হয়নি। এখানে বাঁধ নির্মাণের আদৌ প্রয়োজন নেই।  কারণ টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট ও মাদার ফিসারিজ। বাঁধ নির্মাণ করলে হাওরের জীব বৈচিত্র্য নষ্ট হবে। এছাড়াও অন্যান্য হাওরের জন্য  ঝুঁকিপূর্ণ হবে। কারণ টাঙ্গুয়ার হাওর কে জলাধার হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এই হাওর কে উন্মুক্ত রাখা দরকার।  পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ১ মোঃ মামুন হাওলাদার বলেন এ বছর পরিকল্পিত ভাবে ফসল রক্ষাবাঁধের কাজ হচ্ছে।  আমাদের পরিকল্পনায় এখানে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব নেই।  জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল সালাম বলেন টাঙ্গুয়ার হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধের কাজ না করলে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল অরক্ষিত থাকবে। জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন আমরা সবাই পরিদর্শন করে দেখেছি এখানে বাঁধ নির্মাণের কোন প্রয়োজন নেই।  জেলা কমিটির সভায় বাঁধ নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত: সুনামগঞ্জ জেলার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য প্রতি বছর ফসল রক্ষাবাঁধের কাজ হয়। এ বছর ও সুনামগঞ্জ জেলার ১২ উপজেলার ৪৩  টি হাওরে ১ হাজার ৭৬ টি পিআইসির মাধ্যমে ৭৩৫  কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডে ২শ ৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছেন।