• ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

আমাদের একজন আনসার আহমেদ উল্লাহ:বৃটেনে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছেন–এস.এম.সুজন

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত জুলাই ১৭, ২০২২
আমাদের একজন আনসার আহমেদ উল্লাহ:বৃটেনে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছেন–এস.এম.সুজন

🧧-এস.এম.সুজন🧧
একজন কমিউনিটি সংগঠক, যিনি ১৯৭০ এর দশকের শেষভাগ থেকে যুক্তরাজ্যে বৃটিশ বাঙালি হিশেবে বসবাস করে আসছেন। তিনি একজন বিশিষ্ট যুব সংগঠক, সমাজসেবী এবং বৃটেনে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন সোচ্চার কন্ঠ হয়ে। আনসার এর পিতৃভিটে তথা দাদা বাড়ি ঐতিহ্যবাহী ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে। প্রসন্নমনা এই প্রদীপ্ত তরুনের জন্ম ও শৈশব কেটেছে, সিলেট শহরের হাওয়াপাড়ায়।লেখাপড়া করেছেন সিলেট শহরের দি এইডেড হাইস্কুলে। অতঃপর বসতি গাড়েন সোনারপাড়ায়। আর ওই বাড়ী ইতিহাসের এক অনুল্লেখ সাক্ষী, তাঁর মামা, সিলেটের’ নবরাগ সঙ্গীত বিদ্যালয়ের’ প্রতিস্টাতা অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিক সাহেব এর আপিস ছিল এই নীড়ে। প্রত্যয়দীপ্ত আনসার এর তার মাতা, লুৎফা বেগম আলেয়া ছিলেন সংস্কৃতির অনুরাগী ও সমঝদার, এমনকী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিভৃতে নিবেদিতা বলা যায়। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একটা প্রগতিশীল পরিবেশ আবহে আনসার এর কৈশোর ছিল সংস্কৃতিময় আনন্দঘন।

তাঁর দাদার ছোট ভাই সিফাত উল্লাহ ১৯৪০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, সম্ভবত ১৯৪৪ সালে কিন্তু ১৯৬০এর দশকে বাংলাদেশে ফিরে যান । সিফাত উল্লাহর চাচাত ভাই আজহর আলী ১৯৩৬ সালে যুক্তরাজ্যে এসে বার্মিংহাম শহরে স্থায়ী হন। ১৯৫২ সালে আনসার এর চাচা জইন উল্লাহ যুক্তরাজ্যে আসেন । জইন উল্লাহ, ১৯৫৬ সালে আনসারের বাবা আজমত উল্লাহকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসেন। জইন উল্লাহ এবং আজমত উল্লাহ বার্মিংহামের কিংস হল মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করতেন । ১৯৬৫ সালে আজমত উল্লাহ বার্মিংহাম ছেড়ে বেডফোর্ড শায়ারের লুটনে চলে আসেন নিজের ব্যবসা গোড়াপত্তনের তাগিদে। তিনি লুটনে প্রথম বাঙালি, যিনি ক্যারিবিয়ান দোকান খোলেন । ভাই -বোনদের মধ্যে আনসার হলেন বড়, উনার আরও দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে তিনি তাঁর মা এবং ভাইবোনদের নিয়ে বাবার সাথে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে লুটনে আসেন।

আনসার, ১৯৭৯ সালে সত্তরের দশকের শেষের দশক ও আশির দশকের গোড়ার দিকে জাতিগত সহিংসতার চ্যালেঞ্জের জন্য যুবকদের একত্রিত করার লক্ষ্যে অন্যদের সঙ্গে লুটনে” বাংলাদেশ ইয়ুথ লীগ ” প্রতিষ্ঠা করেন। । ১৯৮০ সালে পূর্ব লন্ডনে পৌঁছলে আনসার লন্ডন, হ্যাকনি, ওয়েস্টমিনস্টার, ক্যামডেন, নিউহাম, লুটন, বার্মিংহাম, ব্র্যাডফোর্ড, ওয়ালসাল, কিথলি, ডাডলি, নিউক্যাসল এবং সান্ডারল্যান্ড থেকে যুব সংগঠন গুলির প্রতিনিধিত্বকারী একটি জাতীয় সংস্থা ফেডারেশন অব বাংলাদেশী ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (এফবিওয়াইও) এর সাথে যুক্ত হন। একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিশেবে আনসার, প্রকাশনা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র নির্মাণ সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের সাথে সাধনায় মনোনিবেশ করেন। তিনি সম্প্রতি (২০২০) বিবিসি ফোর এর প্রামাণ্য চিত্র ‘এ ভেরি ব্রিটিশ হিস্ট্রি: ব্রিটিশ বাংলাদেশিস’ পরামর্শক হিসাবে কাজ করেছেন। ১৯৮৭ তিনি ব্রিটেনে প্রথম বাঙালি রক ব্যান্ড ‘জয় বাংলা ব্যান্ড’ প্রতিষ্টিত করেন। ১৯৯২ সাল থেকে- তিনি উগ্রপন্থার উত্থানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নির্মূল কমিটির সাথে যুক্ত হন । এছাড়া তিনি লেবার পার্টির একসময় সদস্য ছিলেন এবং এখনও লেবার পার্টি সমর্থক রূপে একনিষ্ঠ । ১৯৯৭ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ব্রিক লেনের আশেপাশের অঞ্চলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে” বাংলাটাউন” হিশেবে চিহ্নিত করেছিল। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের প্রতিনিধিত্বকারী আনসার ব্রিক লেন – বাংলাটাউন অঞ্চল পুনঃর্নির্মাণের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিটিসাইড রেজেনারেশন এর সাথে কাজ করেছিলেন। ১৯৯৯ সালে আলতাব আলী পার্কে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার স্থাপনকারী কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন আনসার। ১৯৯৮আনসার, বৈশাখী মেলা’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন; যা এখন বাংলাদেশের বাইরের বৃহত্তম বাঙালি উৎসবে পরিণত হয়েছে।
২০০০ সালে, সহস্রাব্দ উদযাপনের অংশ হিসাবে, আনসার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে “স্বাধীনতা ট্রাস্ট” নামে একটি নতুন ঐতিহ্য ও ইতিহাস ভিত্তিক সংগঠনের সাথে জড়িত হন । ২০০৫ সালে, সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে, ব্রিটেনে বাঙালির তিন প্রজন্মের অভিজ্ঞতার বাংলা মৌখিক ইতিহাস গবেষণা ও নথিভুক্ত করেন। ছাতক এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে এর অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিস্টাতা ট্রাস্টী। সভাপতি, ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিট ডাইরেক্টর স্বাধীনতা ট্রাস্ট, প্রেসিডেন্ট আমরা সিলেটবাসী এবং বাংলাদেশের বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার এর ইউকে করেসপনডেন্ট হিশেবে যশস্বী সাংবাদিক।
বৃটেনে ছাতকের গৌরব এই সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দূর আগামী তে আরও উজ্বলতা ছড়ায়ে আমাদের প্রাণিত করবেন,অমন
শুভ কামনা রইলো।

লেখক ঃস্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সমঝদার, লেখক , সংগঠক এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, বৃটেন।