• ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১লা জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি

বিশ্বনবীর বহু বিবাহ প্রসঙ্গ – মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল বাছিত

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত জুন ১০, ২০২২
বিশ্বনবীর বহু বিবাহ প্রসঙ্গ – মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল বাছিত

প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র বিবিগণ মুসলমানদের মাতা হিসাবে খ্যাত। এজন্য তাদেরকে উম্মাহাতুল মুমিনীন বলা হয়। তাঁদের তুলনা বা মর্যাদা দুনিয়ার কারো সাথে নেই। তাঁদের কাউকে নবীজির ইন্তিকালের পর বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে । কারণ তাঁরা উম্মতের মুমিন জননী । নবীজির বহুবিবাহ সম্পর্কে ঈমান ইয়াকিনের সাথে জানতে হলে আল্লাহ পাকের অনেক নিগূঢ় রহস্য এবং নবীজির দয়া ভালোবাসা ও উন্নত চরিত্রের আত্মপ্রকাশ লাভ হবে। অন্যথায় ঈমান হারানোর সম্ভাবনা-ই বেশি। মুসলমান পুরুষের বিবাহের কারণে নফছে আম্মারা দমন, মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহ অনেক ফায়দা হাসিল হয়, কিন্তু নবীজির বেলায় তার বিপরীত। বিধর্মীদের মধ্যে দান্তে, মারগোলিয়াত, লামসেন্স, সানপ্রেড্রোসহ পাশ্চাত্বের এ সকল পরিচিতজনদের অনেকেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বহু বিবাহের জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং মিথ্যা মনগড়া অভিমত দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু নবীজির একাধিক বিবাহে রয়েছে আল্লাহর হুকুম পালন এবং উম্মতকে শিক্ষা দান । বস্তুতঃ রাসূলের বিবাহ মানবীয় চাহিদার জন্য ছিল না, বরং ছিল তাঁর মধুর চরিত্র, দয়া-মায়া, উদারতা, ধৈর্য-সহ্য, শিষ্টাচারিতা, মহত্ব এবং নবুওয়াতের চমৎকার নিদর্শন। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

প্রথম বিবাহঃ নবীজি প্রথম বিবাহ করেন হযরত খাদিজা বিনত খুওয়াইলিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছরের মধ্যম বয়স্কা এক রমণীকে বিবাহ করার মূলে আল্লাহর হুকুম পালন ও নবীর মুজেজা প্রকাশ করার রহস্য রয়েছে । কারণ হযরত খাদিজা (রা.) এর একটি বর্ণনা আছে যে, তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার পর নবীজির সান্নিধ্যে এসে যেন একজন যুবতীর ন্যায় জীবন কাটিয়েছেন। হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.) নবীজীর সাথে তৃতীয় ও শেষবারের মত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পূর্বের বিবাহে তাঁর সন্তানও ছিল । তিনি নবুওত লাভের পূর্বে পনের বছরসহ হিজরতের পূর্ববর্তী তিন বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নী হিসেবে জীবিত ছিলেন। ৬৫ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন । তিনিই একমাত্র মক্কা শরীফে জান্নাতুল মুআল্লায় সমাহিত।

দ্বিতীয় বিবাহঃ হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.) এর ইন্তিকালের পর পারিবারিক পর্যায়ে নবীজির জীবনে এসেছিল এক মহাদূর্যোগ। ইতিহাসে যাকে আমুল হুযন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কারণ হযরত খাদিজা (রা.)’র ঔরষেই তার সন্তানাদির জন্ম হয়। আর সন্তানাদি মহিলাদের দ্বারাই লালিত পালিত হয়ে থাকেন। নবীজির এসব অবস্থা দেখে হযরত উসমান ইবন মাযউন (রা.) এর স্ত্রী হযরত খাওলা বিনত হাকিমের অনুরোধে হযরত সাওদা বিনত যামআ (রা.) নামী ৭০ বছর বয়স্কা এক বৃদ্ধা বিধবাকে বিবাহ করেন। ৫৫ হিজরী সালে তিনি ইন্তিকাল করেন।

তৃতীয় বিবাহঃ হযরত সাওদা বিনত যামআ (রা.) জীবিত থাকাবস্থায় হযরত আয়িশা (রা.) কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৬/৭ বছর। ৯ বছর বয়সে তাঁর রসুমাত হয়। তিনি ছিলেন হযরত আবু বকর (রা.) এর কুমারী কন্যা। আল্লাহ পাক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হযরত আয়িশাকে বিবাহ করার কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখলেন যে ফিরিশতা হযরত জিবরাঈল (আ.) রেশমের চাদরে আবৃত একটি বস্তু তার সামনে হাজির করলেন এবং বললেন এ বস্তু আপনার। নবীজি চাদর খুলে হযরত আয়িশা (রা.) কে পেলেন। উল্লেখ্য যে, নবীদের স্বপ্ন সত্য ওহীর সমতুল্য। সুতরাং এ বিবাহ ওহীর দ্বারা পরিচালিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের সময় তাঁর বয়স ছিলো আঠারো বছর। ৫৮ হিজরী সালে তিনি ইন্তিকাল করেন ।

চতুর্থ বিবাহ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চতুর্থ বিবাহ হয় হযরত ওমর (রা.) এর কন্যা হযরত হাফছা (রা.) এর সাথে । হযরত হাফছা (রা.) এর স্বামী বদর যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পর দ্বিতীয় বিবাহ দেওয়ার জন্য উমর (রা.) কয়েকজন সাহাবীকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব দেন । কেউ সাড়া না দিলে তখন অশান্তির মতো নবীজির সামনে এসে হাজির হলে নবীজি তাকে সান্ত্বনা দেন এবং হযরত হাফসা (রা.) কে শাদী করেন । এতে নবীজির দয়ার পরিচয় ঘটে। ৫৪ হিজরী সালে তিনি ইন্তিকাল করেন ।

পঞ্চম বিবাহ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পঞ্চম বিবাহ হয় হযরত যয়নব বিনত খোযায়মা উম্মুল মাসাকিম (রা.) এর সাথে । তাঁর স্বামী উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করলে যয়নব বিনত খোযায়মা একেবারে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন । ফলে একমাত্র আশ্রয়দাতা হিসেবে কেহ না থাকায় নবীজি তাঁকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন । এতে একমাত্র আশ্রয় দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য ছিল ।

ষষ্ঠ বিবাহ: হযরত হাফছা (রা.) যখন বিবাহের কয়েক মাস পরে ইন্তিকাল করেন, তখন নবীজি উম্মে সালমা হিন্দ বিনত উমাইয়া (রা.) কে বিবাহ করেন । তাঁর প্রথম স্বামী চাচাত ভাই আব্দুল্লাহ আবু সালমা ওহুদের যুদ্ধে আহত হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। স্বামীর ইন্তিকালে উম্মে সালমা (রা.) চরম দুঃখ ও কষ্টের মধ্যে পড়েন । তাছাড়া উম্মে সালমার স্বামী নবীজির চাচাতো ও দুধ ভাই । এদিকে এতিম সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ সহ সার্বিক দিক দিয়ে নবীজি হযরত উম্মে সালমা (রা.) কে বিবাহ করেন । মূলত এ বিবাহ নবীজির সহানুভূতির পরিচয় বহন করে । তিনি ৬২ হিজরীতে এবং এক বর্ণনা মতে উম্মুল মুমিনীনগণের মধ্যে সর্বশেষ ইন্তিকাল করেন।

সপ্তম বিবাহ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনে সপ্তম বিবাহ হয় আপন ফুফাত বোন হযরত যয়নব বিনত জাহাশ এর সাথে । হযরত যয়নব বিনত জাহাশ এর প্রথম বিবাহ হয় নবীজির আযাদকৃত গোলাম ও পালকপুত্র যায়েদ বিন হারিছার সাথে । এ বিবাহ নবীজির নির্দেশে হলেও তাদের দুজনের মনের মিল হয়নি। এতে এক পর্যায়ে যায়েদ বিন হারিছা যয়নব বিনত জাহাশকে তালাক দেন। এরপর নবীজি তাঁকে বিবাহ করেন। এ বিবাহের মূল কারণ ছিল জাহেলী যুগের প্রথা ছিল পালকপুত্র আপন পুত্রের সমতুল্য । তাই পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম। নবীজি এ বিবাহ করে এ ভুল চিরতরে ভেঙ্গে দিলেন। তিনি ২০ হিজরীতে ইন্তিকাল করেন।

অষ্টম বিবাহ: নবীজির অষ্টম বিবাহ সংঘটিত হয় বনু মুসতালিক গোত্রের হযরত জুওয়াইরিয়া বিনত হারিছ (রা.) এর সাথে। এ মহিয়শীর প্রথম বিবাহ হয়েছিল মুসাফ ইবন সাফওয়ান মুসতালিকের সাথে। পঞ্চম হিজরীতে সংঘটিত বনু মুসতালিক যুদ্ধে স্বীয় গোত্রের অন্যান্যদের সাথে যুদ্ধবন্দী হিসেবে মদীনা শরীফে আসেন। যুদ্ধলব্দ মালের অংশ হিসেবে তিনি ছাবিত বিন কায়েসের ভাগে পড়েন। এদিকে যেহেতু তিনি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে তাই দাসীর জীবন থেকে বাঁচার জন্য টাকার পরিবর্তে মুক্তি পাওয়ার অনুমতি ছাবিত বিন কায়েসের কাছ থেকে পেলে এ টাকা নবীজির কাছ থেকে নিতে চাইলে নবীজি উহা দান করেন এবং পর্যায়ক্রমে তাকে বিবাহ করেন। অপরদিকে নবীজির সাথে নেতার মেয়ের বিবাহ হওয়ার ঘটনা শুনামাত্র বনি মুসতালিক গোত্রের যুদ্ধ বন্দীদেরকে মুসলমানগণ মুক্ত করে দেন এবং তারা সবাই মুসলমান হলেন । এ বিবাহ হওয়ার পেছনে ইসলাম ধর্মের একটি মাইলফলক রচিত হয়েছিল । ৫৬ হিজরীতে তিনি ইন্তিকাল করেন ।

নবম বিবাহ: নবীজির নবম বিবাহ হয় উম্মে হাবীবা বিনত আবি সুফিয়ান (রা.) এর সাথে। উম্মে হাবিবার প্রথম বিবাহ হয় উম্মুল মুমিনীন যয়নব বিনত জাহাশের ভাই উবায়দুল্লাহর সাথে। উম্মে হাবীবার স্বামী মুসলমান হিসেবে হাবশায় (আবিসিনিয়া) হিজরত করেন এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে মুরতাদ (নাসারা) হয়ে যায় । হাবশায় অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তার শাদী হয়। হাবশার বাদশা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষে তাঁর মোহর পরিশোধ করেন । পরিমাণ ছিল চার হাজার দিনার। আর হযরত উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু নবীজির পক্ষে এ বিয়েতে দায়িত্বশীল ছিলেন। আবু সুফিয়ান ছিলেন ইসলামের প্রাথমিক যুগে চিরশত্রু কিন্তু নবীজির এ মুবারক বিবাহ হওয়ায় উম্মে হাবিবার পিতা মেয়ের জামাই তথা নবীজির প্রতি গভীর আন্তরিকতা সৃষ্টি হয় এক পর্যায়ে তিনি নিজেই ইসলাম গ্রহণ করেন । পরবর্তী ক্ষেত্রে ইসলাম ও মুসলমানদের এক বিশেষ শক্তি তথা গৌরবের কারণ হিসেবে দাঁড়ায় নবীজির এ শাদী মুবারক। তিনি ৪৪ হিজরীতে ইন্তিকাল করেন ।

দশম বিবাহ: নবীজির দশম বিবাহ সংঘটিত হয় হযরত সাফিয়া বিনতে হুওয়াই বিন আখতাব (রা.) এর সাথে । তিনি হযরত হারুন (আ.) এর বংশধর ছিলেন। প্রথম বিবাহ হয় প্রখ্যাত অশ্বারোহী সালাম বিন মাসকাম আল ফারাবীর সাথে। প্রথম স্বামীর তালাকের পর দ্বিতীয় বিবাহ হয় বনি কুরায়যার এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি কিনানা বিন আকিলের সাথে। ৭ম হিজরীতে খায়বার যুদ্ধে কিনানা নিহত হলে যুদ্ধবন্দি হিসেবে তিনি মদীনা আসেন। তখনকার আইন অনুযায়ী তিনি দাসী হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে আসেন। নবীজি তাঁকে মুক্ত করে দেন এবং শাদী করেন। তার মুক্তিপন মোহর হিসেবে গণ্য হয় । ৫০/৫২ হিজরীতে তিনি ইন্তিকাল করেন। ইয়াহুদী সম্প্রদায়কে ইসলামের প্রতি অতি আকৃষ্ট করতে ইয়াহুদী নেতা হুওয়াই বিন আখতাবের কন্যা সাফিয়াকে বিবাহ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

একাদশ বিবাহ: নবীজির একাদশতম ও সর্বশেষ বিবাহ হয় হযরত মায়মুনা (রা.) এর সাথে। তাঁর বিবাহ পূর্ব নাম ছিল বাররা। নবীজির সাথে বিবাহের পর তাঁর নাম পরিবর্তন করা হয়। তিনি খালিদ ইবন ওয়ালিদ এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) এর খালা ছিলেন। তাঁর প্রথম বিবাহ হয় মাসউদ বিন আমন বিন উমরের সাথে। প্রথম স্বামী তালাক দেওয়ার পর দ্বিতীয় বিবাহ হয় আবু রুহুম বিন আব্দুল উজ্জার সাথে। দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যুর পর ৭ম হিজরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। ৫১/৫৬ হিজরীতে তিনি ইন্তিকাল করেন। একজন অসহায় মহিলাকে শুধু আশ্রয় দেওয়াই ছিল এ বিবাহের মূল উদ্দেশ্য। নবীজির একাদশতম বিবাহের পর আর কোন বিবাহের আদেশ তাঁকে দেওয়া হয়নি। পবিত্র কুরআনে আছে, হে নবী- এরপর আপনার জন্য কোনো নারী হালাল নয় এবং তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করা ও হালাল নয় যদিও তাদের রূপলাবণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে দাসীর ব্যাপার ভিন্ন । আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর সজাগ নজর রাখেন । (সূরা আহযাব- ৫২)।

প্রিয়নবীর শানে নানা কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি ও মন্তব্য করা হচ্ছে যে, তিনি ছিলেন কামুক, নারীলোভী ইত্যাদি। নাউজুবিল্লাহ । নবীজি যদি কামুক বা নারীলোভী হতেন তাহলে ২৫ বছর বয়সের যুবক হিসেবে ৪০ বছর বয়সের হযরত খাদিজা (রা.) কে বিবাহ করতেন না । নবীজির মোট ১১ জন পবিত্র বিবিগণের মধ্যে ২জনই তার জীবদ্দশায় ইন্তিকাল করেন। বাকি ৯ জনই ওফাত পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
একটি হিসাবে দেখা যায়, নবীজির সাথে উম্মতের মর্দামী শক্তির কতটুকু তফাত। বর্ণিত আছে, দুনিয়ার চল্লিশ জন সুঠাম স্বাস্থ্যবান যুবকের সমান একজন বেহেশতী যুবকের মর্দামী শক্তি, আর বেহেশতী ৪০জন যুবকের সমান একজন নবীর মর্দামী শক্তি । সুবহানাল্লাহ, অর্থাৎ একজন নবীর মর্দামী শক্তির সমান দুনিয়ার ৪০ X ৪০=১৬০০ (একহাজার ছয়শত) যুবকের মর্দামী শক্তি। অতএব আল্লাহ প্রদত্ত্ব হিসাবে যদি একজন পুরুষ চারজন মহিলাকে স্ত্রী হিসাবে রাখতে পারে তাহলে একহাজার ছয়শত জন যুবকের মর্দামী শক্তির মান প্রাপ্ত নবী ১৬০০x ৪=৬৪০০ (ছয় হাজার চারশত) জন মহিলা স্ত্রী হিসাবে রাখা উচিত ছিল। দেখা যায় নবীজীর মূল্যবান জীবনে এগারো জন স্ত্রী ছিলেন, এতে মাত্র একজন কুমারী আর বাকী সব বিবাহিতা। জীবিত হিসাবে ৬৪০০ জনের স্থানে মাত্র নয় জন থাকা উচিত হিসাব মতে ৬৪০০-৯=৬৩৯১জন কম হয়েছে। এতে প্রমাণ হয় নবীর জীবন কত পূতঃপবিত্র ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না ।
তাই নবীজীর বহু বিবাহকে যদি জৈবিক সম্ভোগ স্পীহার ফলশ্রুতী বলে আখ্যায়িত করা হয় তাহলে তা হবে অত্যন্ত অশালীন ও সত্যঘাতী বিষয়। অন্যায় প্রীতি যদি কারো বুদ্ধি ও বিবেককে অন্ধ করে না দিয়ে থাকে তাহলে কোনো কাফেরও এমনটি বলতে পারবে না ।

তথ্যসূত্র: ১. সিরাতে খাতিমূল আম্বিয়া- মুফতি মুহাম্মদ শফী ২. প্রিয় নবীর বিবিগণ – হাফিজ মাওলানা জাকারিয়া ৩. সুবহে সাদিক ২০১৭

লেখক: মুহাদ্দিস, সৎপুর দারুল হাদিস কামিল মাদরাসা, বিশ্বনাথ, সিলেট।