• ১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

নদ নদীর পানি কিছু কমছে, কৃষকরা আধা পাকা ধান কাটছেন

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত এপ্রিল ২০, ২০২২
নদ নদীর পানি কিছু কমছে, কৃষকরা আধা পাকা ধান কাটছেন
লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা নদী সহ সীমান্ত এলাকার নদ নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।  ভারতের মেঘালয় থেকে পাহাড়ি ঢল না নামায় কৃষকদের আতংক কিছুটা কম। তাই সুনামগঞ্জের বিভিন্ন জায়গাতেই ধান কাটার ধুম লেগেছে। কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরে এ পর্যন্ত ৬২ হাজার ৩১৪ হেক্টর জমির ফসল কর্তন হয়েছে গতকাল সোমবার পর্যন্ত আজ মঙ্গলবার আরো ৮/১০ হাজার হেক্টর বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে শতকরা ৩৭ ভাগ ধান কর্তন হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী২ সামসুদ্দোহা জানান  ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরা পুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কম থাকায় এবং ঢল না নামার কারনে নদ নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ২/১ ঘন্টা পর পর ১/২ সেন্টিমিটার পানি কমে। সুরমা নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার আছে। তিনি আরও জানান পানি দ্রুত নেমে গেলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হত। পানি ভৈরবের দিকে নামছে না কোথাও বাধা গ্রস্ত হচ্ছে মনে হয়  । সব গুলো বাঁধই ঝুঁকিপূর্ণ এখনও রয়েছে। তিনি দাবী করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় এ পর্যন্ত-৫  টি বাধঁ ঢলের পানিতে ভেঙে গেছে। এ গুলো হচ্ছে তাহিরপুর উপজেলার গুরমার হাওর, দিরাই উপজেলার চাপতির হাওর,টাংনির হাওর , হুরা মন্দিরা হাওর ও ধর্ম পাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওর।  আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি তে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সবাই কে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত দেব জানান হেরার কান্দি ক্লোজারের সাইডে মাটি ধ্বসে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য নদীর সাইডে এক্সেভেটার ও ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে বাধঁ চওড়া করা হচ্ছে।  পাশাপাশি হাওরের সাইডে বালু ভরাট করে মজবুত করা হয়েছে। নান্টু খালি ক্লোজার ও মেরামত করা হয়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলার নাইন্দার হাওর সহ আশপাশের ফসল রক্ষাবাঁধের বিভিন্ন স্হানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কাউয়ারখালি বাধেঁর কালভার্ট দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। এলাকার লোকজন ও প্রশাসনের সহযোগিতায় মাটি,বাশঁ বস্তা ও জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষার কাজ চলছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হান কবির জানান , গুরমার হাওরের যেখানে বাধঁ ভেঙ্গেছিল তার পাশে লামাগাওয়ে আরেকটি ছোট বাধঁ দেয়া হয়েছে। ২/১ দিন আবহাওয়া ভাল থাকলে ফসল ঘরে তোলার সুযোগ হবে। পুরো উপজেলায় শতকরা ৩০ ভাগ ধান কর্তন হয়েছে। বৃহত্তর মাটিয়ান হাওরের ৫০ ভাগ ধান কর্তন হয়েছে।
আরেকটি বড় হাওর শনির হাওরের ধান পাকতে আরো কদিন সময় লাগবে।
তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন একদিকে পানি কমতে শুরু হয়েছে অন্য দিকে ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। ধান কাটার হারভেস্ট্রার মেশিন ও শ্রমিক পর্যাপ্ত আছে সবার সম্মিলিত সহযোগিতার দরকার তবেই কৃষকদের সোনার ফসল ঘরে তোলা যাবে।
বিশ্বমভর পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিউর রহিম জাদীদ জানান তার উপজেলার শতকরা ৭১ ভাগ ধান কর্তন হয়েছে। বৃহত্তর খরচা ও আঙ্গারুলী হাওর সহ অন্যান্য হাওরের ধান কাটার ধুম লেগেছে।
শনির হাওর পাড়ের বড় কৃষক পাভেল মিয়া জানান শনির হাওরের ধান পাকতে আরও অন্তত ৮/ ১০ দিন লাগবে। ২৮ জাতের ধান ইতিমধ্যেই কিছু কাটা হয়ে গেছে কিছু ধান শিলা বৃষ্টি ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরের বর্ধিত গুরমার হাওরে বাধঁ ভাঙ্গার ফলে পাটাবুকা, ভবানীপুর, সন্তোষ নুর,মানিকটিলা,রাম সিংহ পুর, লামাগাও,নোয়াগাঁও  বলাই কান্দি, গোলাবাড়ি, জয়পুর, গাঞজাইল, মোয়াজ্জেম পুর সহ ঐ এলাকার কৃষকরা ফসল হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।  তাদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসিন্দা মীর্জা আনিসুল ইসলাম লিটন বলেন হুরা মন্দিরা হাওরের পাশের গ্রামের আরও কিছু ছোট ছোট হাওর বা কান্দায় চাপতি ও নলুয়ার হাওরের কান্দা সংলগ্ন হুরা মন্দিরার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওর পাড়ের কৃষক লোকমান হোসেন , জইন উদ্দিন ও মঙ্গল মিয়া জানান অনেক কষ্ট করে ও খরছ করে কিছু জমি চাষাবাদ করেন কিন্ত কিছু পানিতে কিছু গরম বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন নিজে খাব না মহাজনের ঝণ দেব ভেবে পাচ্ছি না। আশা ছিল সামনে ঈদ ছেলে মেয়েদের কাপড় চোপড় দেব ভাল ভাবে ঈদ করব সব শেষ হয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন গত কদিনে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি খুবই ধীর গতিতে নামছে। নদীর পানি কোথাও বাধা গ্রস্ত হচ্ছ মনে হয়। সকল ইউএনও পাউবোর কর্ম কর্তা গণ ও হাওর পাড়ের কৃষক গণ মিলে একদিকে বাধঁ সুরক্ষার কাজ চলছে অন্য দিকে ৮০ ভাগ ধান পাকা হলেই কর্তন করা হচ্ছে।  সবাই কে এই মহা দুর্যোগে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে আসার ও আহ্বান জানান।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •