• ১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

ইংল্যান্ডে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত এপ্রিল ২০, ২০২২
ইংল্যান্ডে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা

বিবিএন ডেস্ক: আসন্ন গ্রীষ্মে ব্রিটেনের অর্থনীতি মন্দায় পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর পারিবারিক আয়ে সবচেয়ে সংকোচন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে মন্দার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এখবর জানিয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, লকডাউন পরবর্তী প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর জীবনযাত্রার মূল্যবৃদ্ধির দ্বিমুখী চাপে টানা দুই অর্ধ্বে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমে এসেছে। যা মন্দার সংজ্ঞা।

ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং গত মাসে ১৯৯২ সালের পর মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চতে পৌঁছার কারণে সিটি’র পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি ২০২২ সালের প্রথমার্ধ্বে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে রয়েছে। কিন্তু আসন্ন গ্রীষ্মে তা কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই মাসে ব্রিটিশ রানির প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী উদযাপনে অতিরিক্ত ব্যাংক ছুটির কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে আসতে পারে। কারণ সরকারি ছুটি সাধারণত সার্বিক অর্থনৈতিক উৎপাদন হ্রাস করে। শীতে জনগণকে কোভিড-১৯ এর টিকাদানের ব্যস্ততার পর স্বাস্থ্যখাতে কর্মকাণ্ডে মন্থর গতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ক্রয় ক্ষমতা কমে আসাও প্রবৃদ্ধিকে চাপে ফেলবে।

ডাচ ব্যাংক আইএনজি-এর অর্থনীতিবিদ জেমস স্মিথ জানান, বছরের দ্বিতীয়ার্ধ্বে অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে। ব্যাংকের পূর্বাভাসে তিন মাস শেষে জুনে ০.৩ শতাংশ সংকোচন এবং তৃতীয়ার্ধ্বে ০.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

জেমস স্মিথ বলেন, এটি মন্দার খুব কাছাকাছি। মানুষ যদি জ্বালানির পেছনে বেশি ব্যয় করে তাহলে অন্যান্য অত্যাবশ্যক নয় এমন পণ্য বিক্রি কমে যাবে। এটিই হয়ত আমরা দেখব।

শুক্রবার প্রকাশিতব্য পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্যে মার্চ মাসে খুচরো বিক্রিতে ভাটার কথা উঠে আসতে পারে। কারণ পরিবারগুলো ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছে। খুচরো বাজারের কর্মকর্তারা জীবনযাত্রার মূল্যবৃদ্ধিতে বিক্রি কমে আসার বিষয়ে সতর্ক করে আসছিলেন।

কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকনোমিকস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ নেইল শিয়ারিং জানান, এই বছর পারিবারিক নিষ্পত্তিযোগ্য আয় ১.৯ শতাংশ কমতে পারে। ১৯৭৭ সালের প্রকৃত ১.৮ শতাংশ কমে যাওয়ার চেয়েও বেশি।

তিনি বলেন, তুলনামূলকভাবে বৈশ্বিক সংকটের পর ২০১১ সালে প্রকৃত আয় কমেছিল মাত্র ১.৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর প্রধান ক্রিস্টালিনা জিওর্গিয়েভা চলমান ও আগামী বছর প্রবৃদ্ধি মন্থর হতে পারে সতর্কতা জানানোর পর বিশেষজ্ঞরা ব্রিটেনে মন্দার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন। কোভিড মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি হতে পারে।

অ্যাকাউন্টেসি প্রতিষ্ঠান আরএসএম ইউকে-এর অর্থনীতিবিদ থমাস পিউগ জানান, তিনি আশঙ্কা করছেন ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতিতে টিকে থাকতে ব্রিটেনের পরিবারগুলোকে সঞ্চয় ভাঙতে কিংবা ঋণ করতে হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য এই বছর মন্দা এড়াতে পারবে বলে মনে করার এটিই প্রধান কারণ। যদিও আমাদের পূর্বাভাস বলছে এই বছরের তিন অর্ধ্বে প্রবৃদ্ধি হবে গড়ে মাত্র ০.১ শতাংশ। ফলে তেলের মূল্য বৃদ্ধি বা সাপ্লাই চেইন ব্যহত হলে যুক্তরাজ্যের মন্দায় পড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •