• ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সুনামগঞ্জে ২০ হাজার হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে ৩শ কোটি টাকার ক্ষতি

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত এপ্রিল ১০, ২০২২
সুনামগঞ্জে ২০ হাজার হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে ৩শ কোটি টাকার ক্ষতি
লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ: সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরের বাধঁ ভেঙ্গে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বোরো ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এতে অন্তত ৩ শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ,তাহিরপুর ,ধর্মপাশা ,দিরাই ও শাল্ল  এই ৫ উপজেলার হাওরের বেশি ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখ যোগ্য হাওর গুলোর মধ্যে দিরাই উপজেলার চাপতির হাওরে প্রায় ৪  হাজার হেক্টর ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল হাওরে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর, শাল্লার ছায়ার হাওরের সহ জেলার ছোট বড় অন্তত ২০   টি হাওরের ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে ৩শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে সরকারী হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত আরো অনেক কম। তাদের হিসেব মতে জেলার ১৪   টি হাওরের ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে  ১শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান জেলায় ২  লাখ ২২  হাজার ৮০৫ হেক্টর বোরো ফসল চাষাবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ১৩ লক্ষ ৫০ হাজার ২২০ মেট্রিক টন ধান। কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর আরও জানান এ পর্যন্ত ২৬০২ হেক্টর জমির ধান কর্তন হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে আরো কর্তন হবে। আমরা নির্দেশ দিয়েছি ৮০ ভাগ ধান পাকা হলেই যেন ধান কর্তন করেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বন্যা সতর্কীকরন কেন্দ্রের মতে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খবরে সুনামগঞ্জ জেলার হাওর পাড়ের কৃষক দের মাঝে আবার আতংক দেখা দিয়েছে। গত কদিন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তাই হাওর পাড়ের কৃষক গণ জমির কাঁচা ও আধা পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন ফসল হারানোর ভয়ে। তাদের মতে নিজে না খেতে পারলেও গবাদি পশুর খাদ্য তো যোগাড় হলো। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লা পাড়া ইউনিয়নের দেখার হাওর পাড়ের আব্দুল্লাহ পুরের বাসিন্দা কৃষক মঙ্গল মিয়া বলেন অনেক কষ্ট করে অন্যের কিছু জমি বর্গা চাষ করেছিলাম। আশা ছিল ধান ঘরে তোলে আগামী ঈদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুন্দর ভাবে করব। কিন্ত পানি আসার আতংকে কাঁচা আধা পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছি।  একই এলাকার দড়িয়াবাজ গ্রামের কৃষক জইন উদ্দিন বলেন পানি আসার খবর শুনে তাড়াহুড়ো করে ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছি কারণ নিজে না খেতে পারলে ও গরু বাছুর তো খেতে পারবে।
 টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের মনদিয়াতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানজু মিয়া বলেন টাঙ্গুয়ার হাওরের তেরগর, কানদা পাড়া, বিনোদ পুর,মইয়া জুরি সহ অনেক গ্রামের কৃষক গণ সর্ব শান্ত হয়ে পড়েছেন। মইয়াজুরি গ্রামের কৃষক নুরুল হক বলেন এই হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতার বাইরে। প্রতি বছরই ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বাধঁ নির্মাণ করা হয়। গত কদিন এলাকার সর্ব স্তরের মানুষ সম্মিলিত ভাবে কাজ করে হাওরটি টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হই কিন্ত শেষ রক্ষা হয়নি। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন গত কদিন ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজার ও বাধঁ নির্মাণ কাজ সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে করে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসি  আবার আবহাওয়ার পূর্বাভাস ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হওয়ার খবর দেয়ার সংবাদে শংকায় আছি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান গত কদিন ইউএনও ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্ম কর্তা এবং সাধারণ কৃষক মিলে বাধঁ রক্ষার কাজ করে ঝুঁকি মোকাবিলা করি। এ পর্যন্ত যেসব হাওরে বাঁধ ভেঙে ফসলের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রণোদনা প্রদান করা হবে। কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও জানান সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলের কারণে বাধঁ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে সাড়ে ১৪ কেজি করে দুই হাজার ব্যাগ শুকনো খাবার সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা দিরাই,   শাল্লা, জামালগঞ্জ  তাহিরপুর ও ধর্ম পাশা দেয়া হয়েছে। সরকার থেকে ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এর মধ্যে ১১০ মেট্রিক টন চাল ১১টি উপজেলার ইউএনও দের দেয়া হয়েছে।