• ১২ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সুপ্রিম কোর্টে আপিলের নিষ্পত্তি লাফার্জহোলসিমের অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসার বাধা কাটল

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত এপ্রিল ৮, ২০২২
সুপ্রিম কোর্টে আপিলের নিষ্পত্তি লাফার্জহোলসিমের অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসার বাধা কাটল

 

ছাতক(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের চুনাপাথর চিপ বা অ্যাগ্রিগেটসের ব্যবসার বাধা কেটেছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ-সংক্রান্ত শিল্প মন্ত্রণালয়ের আপিলটি নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছে। আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, ওবায়দুল হাসান ও এম ইনায়েতুর রহিমের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে গতকাল আপিলটির নিষ্পত্তি হয়। এর আগে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকেও অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসার সাময়িক অনুমোদন পায় কোম্পানিটি।

অ্যাগ্রিগেটস উৎপাদন ও ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর লাফার্জহোলসিমকে চিঠি দিয়েছিল শিল্প মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা-সংক্রান্ত চিঠিটি তারা হাতে পায় ২০ সেপ্টেম্বর। ব্যবসা বন্ধের নির্দেশনার কারণ হিসেবে ওই চিঠিতে সে সময় বলা হয়, লাফার্জহোলসিম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেয়নি। এ চিঠি হাতে পাওয়ার পর পরই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় লাফার্জহোলসিম। শুনানি শেষে গত বছরের ১৬ নভেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিঠির কার্যকারিতা এক মাসের জন্য স্থগিত করে রায় দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় অ্যাগ্রিগেটসের উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেছিল লাফার্জহোলসিম। পরবর্তী সময়ে এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজের আদালতে আপিল করে শিল্প মন্ত্রণালয়। আপিল শুনানি শেষে গত ২৩ নভেম্বর চেম্বার জজের আদালত শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত থাকবে বলে রায় দেন। এর ফলে ২৩ নভেম্বর থেকেই কোম্পানিটির অ্যাগ্রিগেটস উৎপাদন ফের বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের আদেশে ফের উৎপাদন শুরু করে কোম্পানিটি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে করা কোম্পানিটির রিট পিটিশনের এক আদেশের পর সে সময় উৎপাদন শুরু করা হয়। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে সিএমপি দাখিল করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেয়া আগের আদেশ স্থগিতের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দাখিলকৃত সিএমপি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান বিচারক।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাময়িক অনুমোদন পাওয়ার পর এ বছরের ২৭ মার্চ থেকে দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারো অ্যাগ্রিগেটস উৎপাদন শুরু করে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। সে সময় কোম্পানিটি জানিয়েছিল, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অ্যাগ্রিগেটস উৎপাদন ও খোলাবাজারে বিক্রির অনুমোদন-সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর তাত্ক্ষণিকভাবে আবারো অ্যাগ্রিগেটসের উৎপাদন শুরু করেছে। লাইমস্টোন চূর্ণ করে অ্যাগ্রিগেটস উৎপাদনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালা প্রণয়ন করার আগ পর্যন্ত লাফার্জহোলসিমকে এ সাময়িক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নীতিমালা প্রণয়নের পর কোম্পানিটিকে আবারো অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে।

গত বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাগ্রিগেটসের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। এসব চুনাপাথর চিপের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এগুলো ক্লিয়ার সাইজের ও গ্রেডেড চিপ। অর্থাৎ এসব চিপের সবগুলোর আকার ও আকৃতি একই, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনের অন্যতম শর্ত। সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কোম্পানিটির ক্লিংকার ও সিমেন্ট উৎপাদন কারখানা প্রাঙ্গণেই এ চুনাপাথর চিপ ক্রাশিং ইউনিটটি স্থাপন করা হয়। ইউনিটটি বছরে ১২ লাখ টন কোণ আকৃতির চুনাপাথর চিপ উৎপাদন করতে সক্ষম। এ ইউনিট স্থাপনে কোম্পানিটির নিজস্ব তহবিল থেকে ৪০ কোটি ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০২১ হিসাব বছরে কোম্পানির মুনাফার ১২ শতাংশই এসেছে অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা থেকে।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিমেন্ট থেকে ১ হাজার ৯৪৬ কোটি ও অ্যাগ্রিগেটস থেকে ১০৭ কোটি টাকা আয় হয়েছে।