• ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

ছাতকে ১৫টি হাওরের বোরো ফসল ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত এপ্রিল ৫, ২০২২
ছাতকে ১৫টি হাওরের বোরো ফসল ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে সুনামগঞ্জের ছাতকে হাওর পাড়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে এক অজানা আতংক। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি হাওরে ঢলের পানি প্রবেশ করে বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। বাধেঁর কানায়-কানায় পানি চলে আসায় হুমকির মুখে রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি হাওরের ফসল । এখানে শঙ্কায় কাটছে কৃষক পরিবারের রাত- দিন। অনেক হাওরে বাধেঁর উপর রাতভর কৃষকরা পাহারা দেয়ার খবরও পাওয়া গেছে। কৃষকরা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ রক্ষা ও মেরামতে দিন রাত কাজ করছেন। সোমবার রাত থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নুতন আশায় আবারো বুক বেধেঁছেন কৃষকরা। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ছোট-বড় মোট ৬৮টি বিল- হাওর রয়েছে। এরই মধ্যে অন্তত ১৫টি হাওরের শতাধিক হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। আরো ২৫টি হাওরের বোরো ফসল রয়েছে হুমকির মুখে। বর্তমানে পানি ক্রমহ্রাসমান অবস্থায় রয়েছে। গত কয়েক দিনে পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারনে সুরমা, চেলা ও পিয়ানই নদীর পানি আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এখানের হাওর পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র সোম। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গোয়া-পাগুরা হাওরের ২০ হেক্টর, চরমহল্লা ইউনিয়নের নাগা উন্দা হাওরের ১৬ হেক্টর, ডিমকাহাওরের ৫ হেক্টর, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের পুটিয়া হাওরের ১০ হেক্টর ও দক্ষিন খুরমা ইউনিয়নের জল্লার হাওরের ১০ হেক্টর বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ ছাড়াও দক্ষিন খুরমা ইউনিয়নের যমুনা খাই হাওর, পাতলা চুরা হাওর, দল্লার হাওর, নোয়ারাই ইউনিয়নের চাউলীর হাওর, ইসলামপুর ইউনিয়নের নলখাই হাওর, মুতিয়ার হাওর ও ছৈদাবাদ গ্রামের পুবের হাওরে পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তৌফিক হোসেন খান শতকরা ৮০ ভাগ পাকা ফসল কাটার পরামর্শ দিয়ে জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এখানে ১৪ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কর্তন করা হয়েছে প্রায় ৫ হেক্টর জমির ফসল। আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বর্তমানে পানি ক্রমহ্রাসমান অবস্থায রয়েছে। দ্রুত পানি সরে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, কৃষকদের সতর্ক থাকার ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ দিকে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকায় হাওর পাড়ের কৃষকরা পি আই সি কমিটিকে দায়ী করেছেন। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে সঠিকভাবে কাজ হয়নি। এবং সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামত ও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এ বছর বাঁধের কাজের কোন তদারকি ও করা হয়নি এমন দাবি হাওর ও বিলের পাড়ের কৃষকদের।