• ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সুনামগঞ্জে ৫০টি পরিবারকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করে ব্যতিক্রমী রায় দিলেন বিচারক

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত মার্চ ১৫, ২০২২
সুনামগঞ্জে ৫০টি পরিবারকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করে ব্যতিক্রমী রায় দিলেন বিচারক
 লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ: আপোষ মীমাংসা সূত্রে মামলা দ্রæত নিষ্পত্তি করে ৫০ টি পরিবারকে ভাংগণের হাত থেকে রক্ষা করে ব্যতিক্রমী রায় দিলেন সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ জাকির হোসেন।
মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ রায় দেন  বিচারক। পাঁচ শর্তের উপর ৫০ দম্পতিকে সাজার বদলে আদালতের পক্ষ থেকে সবার হাতে ফুল দিয়ে বরণকরেন।
পাঁচ শর্তে মামলার নিস্পত্তি করে আদালত। শর্তগুলোর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী সন্তানাদি নিয়ে পরিবারের সব সদস্যদের সাথে শান্তিপুর্নভাবে সংসার ও ধর্ম পালন, সংসারে শান্তি নষ্ট হয় এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকা,স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি না করা,পরিবারের যেকোন সমস্যা আলোচনা করে সমাধান করা,স্ত্রী কখনো নির্যাতন না করা।
যৌতুকসহ নানাবিধ কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে সংসার থেকে বিতাড়িত ৫০ নারী তাদের স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিল।
বিচারক উভয়ের বক্তব্য শুনে তাদের সন্তানদের এবং তাদের মঙ্গলের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এক সম্প্রীতির বন্ধন এটে ৫০টি যুগলকে তাদের পারিবারিক মহামিলনের ব্যবস্থা করে তাদের মামলা নিষ্পত্তি করে দিলেন। নির্যাতনের শিকার হয়ে নারীরা সংসার থেকে বিতাড়িত হয়ে তাদের ছোট ছোট সন্তানাদি নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চিত এক জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্ধকার জীবন থেকে স্ত্রীকে স্বামীর এবং সন্তানদের তাদের বাবার পারিবারিক বলয়ে আবদ্ধ করে দিলেন বিচারক। সংসার থেকে বিতাড়িত ছোট ছোট সন্তানাদি নিয়ে দুর্দশাগ্রস্থ এসব নারীদের দুঃখ বেদনা আর দীর্ঘশ্বাসে আদালত অংগন ভারী থাকত। সুষ্ঠ শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের প্রথম ইউনিট পরিবারই যদি বিশৃঙ্খলার বেড়াজালে ধ্বংস হয়; পারিবারিক কলহের কারণে ছোট ছোট শিশুরা যদি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অযতœ অবহেলায় বেড়ে ওঠে তবে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিপতিত হয়। সেজন্য আইনে এধরণের মামলা আপোষযোগ্য করা হয়েছে। আইনের সে উদ্দেশ্যকে বাস্তবে রূপ দিতেই আদালতের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ। এ উদ্যোগের ফলে দ্রæত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৫০ স্ত্রী তাদের সংসার ফিরে পেল এবং সন্তানাদি তাদের বাবা মা উভয়ের সান্নিধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির এক অপূর্ব বন্ধন তৈরী হল।
সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নির্যাতিত নারীদের মামলা সমূহ দ্রæত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সমাজ বিনির্মাণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন যার ফলশ্রæতিতে বিচারপ্রার্থী জনগণ দ্রæত ন্যায় বিচার পাচ্ছেন এবং মামলা জট কমছে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর খায়রুল কবীর রোমেন বলেন,এর আগে বিচারক এমন অনেক রায় দিয়েছেন। যার ফলে আদালতের প্রতি মানুষের আরো বেশি আস্থা ফিরে আসবে। এবং আদালতে বর্তমানে মামলা জট রয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে মামলা জটও কমে আসবে।
এর আগেও একই বিচারক কয়েক দফায় বিপুল সংখ্যক মামলা আপোষ নিষ্পত্তি করে তাদের পরিবারকে মিলনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরত দেয়া হয়েছিলো।
রায় পাওয়া দম্পতিরা ও খুব খুশি এবং তাদের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ভবিষ্যতে স্বামী স্ত্রী মিলে মিশে সংসার করে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে তুলবে।