• ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সুনামগঞ্জে নাগরিক শোকসভা:পীর হাবিব ছিলেন গণমানুষের কলম সৈনিক

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত মার্চ ১২, ২০২২
সুনামগঞ্জে নাগরিক শোকসভা:পীর হাবিব ছিলেন গণমানুষের কলম সৈনিক

 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: খ্যাতিমান সাংবাদিক ও কলামিস্ট, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান স্মরণে গতকাল সুনামগঞ্জে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকালে সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সুনামগঞ্জ পৌরসভা এ নাগরিক শোকসভার আয়োজন করে। শোকসভায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পেশার বিদগ্ধজনদের কাছ থেকে পীর হাবিবুর রহমান সম্পর্কে স্মৃতিচারণা শুনতে শোকসভাস্থলে হাজারো মানুষ উপস্থিত হন।

পড়ন্ত বিকালে কানায় কানায় ভরে ওঠে স্কুলমাঠ।
শোকসভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পীর হাবিব ছিলেন আমাদের পরিবারের একজন। সুনামগঞ্জের উন্নয়ন, অগ্রগতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হতো। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ করতেন।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি রাজনীতির ব্যাপারে আমাকে অনেক সুপরামর্শ দিতেন। তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সুনামগঞ্জকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিলেন।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলাম। আর পীর হাবিব প্রস্তুত ছিলেন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার জন্য জীবন দিতে।

আমরা যে দেশের জন্য লড়াই করেছিলাম সেই দেশ পাইনি। মুক্তিযোদ্ধাদের আকাংক্ষার দেশ গড়তে প্রতিনিয়ত লিখতেন পীর হাবিব। তাঁর জীবন আরও দীর্ঘ হলে দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো। আমার জীবনের সুকর্মের বিনিময়ে আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসিব করেন।


জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, এরশাদ সরকার আমলে রাজনীতির জন্য পীর হাবিব জেল খেটেছিলেন, আবার এরশাদ সাহেবের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল।

এরশাদের সমালোচকও ছিলেন তিনি। আমি জাতীয় সংসদে পীর হাবিবের লেখার উদ্ধৃতি দিতাম। দেশের একজন প্রথম সারির কলামযোদ্ধা যাঁর গাড়ি-বাড়ি ফ্ল্যাট নেই। এ প্রজন্মের সাংবাদিকদের তাঁকে অনুসরণ করা উচিত।


সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, পীর হাবিব জঙ্গিবাদ, পাকিস্তানপন্থা, সামরিক শাসনের বিপক্ষে এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে আজীবন লিখে গেছেন। মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর পীর হাবিব স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কলমযোদ্ধা ছিলেন।

তিনি দুই হাত খুলে লিখতেন। তাঁর কলমের ডগা দিয়ে আগুনের ফুলকি বেরোত। এভাবে লিখতে বুকের পাটা লাগে, যেটা তাঁর মধ্যে ছিল। গল্প বলার ঢঙে তিনি লিখতেন, যেখানে আবেগ মেশানো থাকত। তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন না, ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের, স্বাধীনতার ও বঙ্গবন্ধুর পক্ষের সাংবাদিক।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেন, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা পীর হাবিব সাধারণ মানুষের পক্ষেই কথা বলতেন। তাঁর আগুনঝরা লেখনীতে সাধারণ মানুষের কথা ফুটে উঠত। পীর হাবিব আমার চেয়ে হাজার গুণ বেশি সাহসী ছিলেন। বাংলাদেশের মানচিত্রে এখন শকুনের চোখ পড়েছে। এখন পীর হাবিবের মতো সাহসী মানুষের দরকার ছিল। তাঁকে সুনামগঞ্জের মানুষ এতটা ভালোবাসে আমি এখানে না এলে বুঝতে পারতাম না।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখতের সভাপতিত্বে ও সাজ্জাদুর রহমান সাজুর সঞ্চালনায় শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক এমপি মতিউর রহমান, মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুস সামাদ ডন, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নূরুল হুদা মুকুট, সিনিয়র সাংবাদিক প্রণব সাহা, সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না। পীর হাবিবের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তাঁর সহোদর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান পীর ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, পীর হাবিবের ছেলে ব্যারিস্টার আহনাফ ফাহমিন অন্তর ও মেয়ে রাইসা নাজ চন্দ্রস্মিতা।