• ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আরব আমিরাতের সাবেক বিচারপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা হাবিবুর রহমানের ইন্তেকাল

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২২
আরব আমিরাতের সাবেক বিচারপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা হাবিবুর রহমানের ইন্তেকাল

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আরব আমিরাতের সাবেক বিচারপতি, দেশবরেণ্য  প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন,” মুহাদ্দিস ছাহেব ” নামে দেশে বিদেশে সমধিক পরিচিত, উপমহাদেশের অন্যতম হাদিস বিশারদ,
শায়খুল হাদীস আল্লামা হাবিবুর রহমান আর নেই।
ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন।জকিগঞ্জের রারাই গ্রামে নিজ বাড়িতে সন্ধ্যা ৬ টা ১০ মিনিটে তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চিরবিদায় হয়ে গেছেন।তিনি শামসুল উলামা আল্লামা আব্দুল লতিফ ছাহেব ক্বিবলাহ ফুলতলী (রাহ) এর অন্যতম খলিফা।

ইছামতি কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ শায়খুল হাদিস আল্লামা হাবিবুর রহমানের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে   জামাতা মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী এই তথ্য জানিয়েছেন। মরহুমের জানাজার নামাজ আগামীকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় বাড়ি সংলগ্ন উত্তরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।


আল্লামা হাবিবুর রহমান ঐতিহ্যবাহী ইছামতি কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ,ঐতিহ্যবাহী সৎপুর কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস, হাজার হাজার আলেম-উলামার উস্তাদ,উস্তাযুল আছাতিজা ওয়াল মুহাদ্দিসিন ছিলেন।
তাঁর ইন্তেকালে দেশবাসী একজন বরেণ্য আলেম, হাদিস বিশারদকে হারালো। যার অভাব কোনোদিনও পূরণ হবার নয়।

আল্লামা মুহাদ্দিস ছাহেবকে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতুল ফেরদৌসের উঁচু মাকামে জায়গা করে দেবেন ইনশাআল্লাহ। আমি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করি ও তাঁর শোকাভিভূত পরিবার পরিজন স্বজনদের সবরে জামিলা দান করেন।

শাইখুল হাদীস আল্লামা হবিবুর রহমান জকিগঞ্জের রারাই গ্রামে ১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এলাকার খ্যাতিমান আলিমে দীন মরহুম মাওলানা মুমতায আলী ও মাতা মরহুমা আমিনা খাতুন। ৭ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

তিনি ইছামতি দারুল উলুম সিনিয়র মাদরাসায় অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রম ও একান্ত প্রচেষ্টা ইছামতি মাদরাসা পূর্ব সিলেটের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। তাঁর একক প্রচেষ্টায় মাদরাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়। আলিম, ফাজিল ও কামিল ক্লাশের সরকারি মঞ্জুরি এবং স্বীকৃতি আদায়ে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ইছামতি মাদরাসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সৎপুর কামিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শায়খুল হাদিস ছিলেন।

অর্ধ শতাব্দীরও অধিককাল ধরে ইলমে হাদীসের খিদমতে নিয়োজিত এ মনীষী অধ্যাপনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে কুরআন-হাদীসের শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন মাহফিলে বয়ান পেশ করতেন।