• ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২২শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

খালেদা জিয়ার আবেদনে মুক্তির সুযোগ কতটুকু?

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১
খালেদা জিয়ার আবেদনে মুক্তির সুযোগ কতটুকু?

বিবিএন ডেস্ক: ফৌজদারি আইনে সরকারকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাভোগের মেয়াদ স্থগিত করা হয়েছিল। এরপরই মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। তার সেই মুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর। এ অবস্থায় নতুন করে আবেদন জানিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর পরিবার। কিন্তু সেই আবেদনে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। এরপর এ মামলার আপিলে তার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

পরে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

এরপর কারান্তরীণ অবস্থায়ই ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর ও ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবে কয়েক দফায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এবং হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়া হয়। তবে এরই মধ্যে দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে তার পরিবার সরকারের কাছে আবেদন জানায়।

সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারা মতে খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে দেশের অভ্যন্তরে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে মুক্তি দেয়। এই সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে শর্তে জানানো হয়।

ওইসব আবেদন বিবেচনায় নিয়ে ২০২০ সালের ২৪ মার্চ খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে সরকার। পরদিন ২৫ মার্চ তিনি মুক্তি পান। এরপর দ্বিতীয় দফা আবেদনের পর ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ মাস এবং তৃতীয় দফায় চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে খালেদা জিয়াকে পুনরায় ছয় মাসের জন্য নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয় সরকার।

তবে তিনদফা মেয়াদ বৃদ্ধির পর নতুন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার বিষয়ে আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। কেননা, তৃতীয় দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর।

সে আবেদনটি ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আবেদনটিতে মতামত দিয়েছি। সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এরপর আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে।

ওই আবেদনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসা করাতে নেওয়ার আইনগত সুযোগ কতটুকু সে বিষয়ে তার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আবেদনটিতে অবশ্যই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সুযোগ রয়েছে। তিনি সুস্থ্য থাকা অবস্থায় জেলে গিয়েছিলেন। জেল থেকে তাকে কয়েকবার চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি সুস্থ্য হননি। তারপর সরকার আইনত বিশেষ ক্ষমতায় তাকে মুক্তি দিয়েছে। এখনো তিনি বেশ কিছু গুরুতর রোগে আক্রান্ত। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই সরকার তার স্বাস্থ্যের বিষয় বিবেচনা করবেন বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, আবেদনটি বিবেচনা করা বা না করা পুরোপুরি সরকারের উপর নির্ভর করছে। সরকার চাইলে আইনত তাকে বিনা শর্তে মুক্তি দিতে পারে। আবার চাইলে সাজা লাঘব করে দিতে পারে। শর্ত প্রত্যাহার করার বিষয়টিও আইনে রয়েছে। অর্থাৎ, সরকার চাইলে সবই পারে। এ সরকারের আমলেই অনেকের সাজা মওকুফের নজির রয়েছে।

আবেদনটি বিবেচনা বা এর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমি আগেও বলেছি। আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। তাই এর আগে কোনও মন্তব্য করা উচিৎ হবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •