• ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১২ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

লন্ডন থেকে আড়াইশ মাইল দুরে বৃটেনের প্রথম মসজিদে:তাইসির মাহমুদ

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত আগস্ট ২৮, ২০২১
লন্ডন থেকে আড়াইশ মাইল দুরে বৃটেনের প্রথম মসজিদে:তাইসির মাহমুদ

তাইসির মাহমুদ: শুক্রবার লন্ডন থেকে লেইক ডিষ্ট্রিক যাওয়ার পথে একটি ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ পড়ার সুযোগ হলো । ঐতিহাসিক এই কারণে যে, এটি বৃটেনের প্রথম মসজিদ এবং এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা বৃটেনের প্রথম শ্বেতাঙ্গ কনভার্টেড মুসলিমদের একজন। তিনি ১৮৮৭ সালে ইসলাম গ্রহণের পর আফগানিস্তানের তৎকালিন প্রিন্স নসরুল্লাহ খানের আর্থিক সহযোগিতায় লিভারপুলের ৮ ব্রোহাম টেরেসে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন । আর তাঁর মাধ্যমে প্রায় ৬০০ বিশিষ্ট ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন । তাঁর মৃত্যুর ১৩৪ বছর পর আজ বৃটেনে মুসলমানের সংখ্যা দাঁড়িয়ে ৩০ লাখেরও বেশি।

এই মহান সাধকের নাম আব্দুল্লাহ কুইলিয়াম । ইসলাম গ্রহণের পুর্বে তাঁর নাম ছিলো উইলিয়াম হ্যানরি কুইলিয়াম। পেশায় ছিলেন একজন খ্যাতনামা আইনজীবী।

লন্ডন থেকে আড়াইশ’ মাইল দুরের সমুদ্র তীরবর্তী শহর লিভারপুলে মসজিদটির অবস্থান। নাম আব্দুল্লাহ কুইলিয়াম মসজিদ । তাঁর মৃত্যুর পর মসজিদটি বন্ধ হয়ে পড়ে এবং ১শ বছরের বেশি সময় লিভারপুলের ‘জন্ম ও বিবাহ রেজিস্ট্রি অফিস’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উইলিয়াম হ্যানরি কুইলিয়াম মরক্কো সফরে গিয়েছিলেন। সেখানকার মুসলমানদের আতিথেয়তা তাঁকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করে। তিনি পবিত্র কুরআনের অনুবাদ পড়েতে শুরু করেন এবং একসময় ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন।

২০১৪ সালে বাংলাদেশীদের প্রচেষ্টায় মসজিদটি আবার চালু হয় । মসজিদের সিইও মুমিন খানের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে। ট্রাষ্টি ডাঃ আব্দুল হামিদের বাড়ি ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে। তাঁরা আমাদেরকে মসজিদটি ঘুরে দেখালেন। মুল মসজিদের লাগোয়া কাউন্সিলের একটি বিশাল ভবন তিন লাখ পাউন্ডে ক্রয় করে মসজিদে রুপান্তরিত করেছেন। বর্তমানে প্রায় পাচ হাজার মানুষ একসাথে নামাজ পরতে পারেন। মসজিদটির সংস্কার কাজ চলছে। শুক্রবারে জুমার নামাজে হাজারেরও বেশি মুসল্লির উপস্থিতি ঘটে। (মসজিদের আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্য)।

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ।