• ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১২ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

স্বপ্নের ঠিকানার বাসিন্দারা শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেন

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত জুলাই ২৪, ২০২১
স্বপ্নের ঠিকানার বাসিন্দারা শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেন
লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত ঘেষা নয়নাভিরাম পর্যটন স্পট শিমুল বাগান। পাশেই রুপের নদী জাদুকাটা ও মাহারাম।  ওপারে ভারতের সীমান্ত পাহাড় ঘেরা।এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশ বিদেশের অগনিত পর্যটক শিমুল বাগান, যাদুকাটা নদী ও সীমান্তের পাহাড় দেখতে ভিড় করেন।  করোনাভাইরাস জনিত কারণে ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকায় ও স্থানীয় প্রশাসন কঠোর থাকায় লোকজন আসা বন্ধ । মানি গাওয়ের শিমুল বাগানের ঠিক পাশেই মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭০টি পাকা ঘর নির্মাণ করে  ৭০ টি গৃহহীন পরিবার কে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ দেয়া হয়েছে। পাশের ঘাঘটিয়া গ্রামে ও আরো ৭৬টি সহ মোট ১৪৬টি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পরিবার গুলো বসবাস করছেন বেশ ভাল ভাবেই।  দুটি জায়গাতেই প্রায় ৭/৮ শত মানুষ তাদের স্বপ্নের ঠিকানায় পরম আনন্দের সাথে বসবাস করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার ছিল কোন লোক গৃহহীন থাকবে না ।তারই ফল স্বরূপ সারা দেশের মতো সুনামগঞ্জ জেলায় ও আনুমানিক ৪ হাজার ঘর বরাদ্দ প্রদান করেন।  প্রতিটি ঘরের জন্য দুই শতক জায়গার উপর প্রায় ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করে দলিল সহ তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। সাথে নলকূপ ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা।
শিমুল বাগানের পাশের মানিগাঁও ৭০টি ঘর সরেজমিন পরিদর্শন করে বসবাস কারী দের  সাথে কথা বলে জানিয়েছেন তারা পরম সুখে আছেন।  এখানকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল মালেকের স্ত্রী বৃদ্ধা সাদল বানু জানান এত সুন্দর বাড়ি নিজের হবে কোনদিন চিন্তাই করিনি। আগে ভাড়া না হয় অন্যের বাড়িতে থাকতেন। প্রায় দুই মাস আগে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঘরে বসবাস করছেন। তিনি জানান খাবার পানি সহ সকল সুযোগ সুবিধা আছে । শুধু বিদ্যুতের সংযোগ লাগেনি তবে ঘরে ওয়ারিং করা হয়ে গেছে ।  সাদল বানু প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রতিদিন দোয়া করেন আল্লাহ যেন তাকে বাচিঁয়ে রাখেন । কথা হয় পাশের ঘরের বাসিন্দা কুদরত আলীর স্ত্রী কল্পনা বেগমের সাথে তিনি বলেন গত দুই মাস ধরে এখানে এসেছি এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে এর আগে বারেকের টিলায় ভাড়া থাকতেন। স্বামী যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।  এখন তারা খুব আরামে আছেন নিজের বাড়িতেই থাকেন।  কল্পনাও শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর না পেলে সারাজীবন অন্যের বাড়িতেই থাকতে হত। অন্যের বাড়িতে থাকা যে খুব কষ্টের তা বলে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করেন।
মৃত কালা মিয়ার পুত্র কবির মিয়া( ৪০) মৃত আব্দুল সালেকের পুত্র আব্দুর রশিদ মৃত মকবুল হোসেনের পুত্র আব্দুল মতিন ও তাদের ছেলে মেয়ে সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে একই ভাবে বসবাস করছেন।  তারা সবাই স্বপ্নের ঠিকানার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে নিজেকে গর্বিত বোধ করেন। তারা জানান আমরা যুগ যুগ ধরেই ভিটেভাটি ছাড়া এতদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার মুজিববর্ষের ঘর পেয়ে আমরা তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং আল্লাহ্‌র নিকট দোয়া করি শেখ হাসিনা যেন দীর্ঘ জীবি হোন । কারণ শেখ হাসিনা যদি বেঁচে থাকেন তাহলে আমাদের আরও অনেক কিছুই পাওয়ার আছে। তারা জানান বিদ্যুতের সংযোগ এখনও লাগেনি তবে ঘরের ওয়ারিং করা হয়ে গেছে।  তাদের জানানো হয়েছে খুব শীঘ্রই সংযোগ দেয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্ম কর্তা মোঃ রায়হান কবির জানান মুজিববর্ষের উপহার স্বরূপ ঘর প্রথম পর্যায়ে ৭০টি মানিগাঁও এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘাঘটিয়ায়   ৭৬  টি  সহ মোট ১৪৬টি ঘর
নির্মাণ করে গৃহহীন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে গেছে। তারা এখানে বসবাস করছেন। নলকূপ সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বিদ্যুতের সংযোগ হয়নি ঘর গুলোর ওয়ারিং শেষ পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ খুব শীঘ্রই সংযোগ দিয়ে দেবে।  ইউএনও আরো জানান এই এলাকাটি আরও দৃষ্টি নন্দন করতে আমাদের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।এছাড়াও অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ নির্মাণ ও সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা হবে। ঈদুল আযহার সময়ে তাদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রী ও দিয়েছি। তাদের জীবনমানের উন্নয়ন করতে আমাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন ঘর পেয়ে এই পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটেছে এর সকল কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর কোন কোন জায়গায় নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হয়েছে কোন কোন জায়গায় কাজ চলমান রয়েছে। যেসব জায়গায় কিছু ত্রুটি আছে এগুলোও দ্রুত সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।