• ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

করোনা, ঈদের ছুটি, অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত জুলাই ১৩, ২০২১
করোনা, ঈদের ছুটি, অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ

 

সাজেদুল হক:বড্ড খারাপ সময়। এক বন্ধু, কলিগের মা আইসিইউতে। কালই দুপুরে কুমিল্লার খুব কাছের এক বন্ধু জানালেন, তার পিতা আইসিইউতে। কিছুক্ষণ পর ফের ফোন, আব্বাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। অসহায় এক সন্তান পিতার জন্য ঠিক কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থার অভাব সংকটকে আরো তীব্র করেছে। আমরা তার এই বন্ধুরা কিছু করতে পারছি না।
আসলেই এ খুব অসহায় সময়। এমন অসহায় পরিস্থিতিতে শত শত পরিবার।

যারা ভুক্তভোগী শুধু তারাই বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারছেন। যার যায় সেইতো আসলে বুঝে। বাকি বেশির ভাগ মানুষই স্বার্থপরতার ব্যাধিতে আক্রান্ত। নিজে তীব্রভাবে আক্রান্ত না হলে তারা বুঝেই না। তারা অনেকে করোনা বিশ্বাস করে না। কেউ বলে গ্রামে করোনা হয় না। অথচ গ্রামের রোগীতে এখন হাসপাতাল ভর্তি। ক্ষমতাবানরা আরও এগিয়ে। এক ক্ষমতাবানকে আগে টিভি পর্দায় দেখলেই শুনতাম, আমরা ভালো আছি। এখন বলা হচ্ছে, করোনা সংক্রমণ ঠেকানো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। ক্ষমতাবানরা এখন প্রায়শ’ই কোভ্যাক্স থেকে কত টিকা আসছে, তার খবর দেয়া নিয়ে ব্যস্ত। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, করোনা টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা পৃথিবীর অন্যতম পিছিয়ে থাকা দেশ। পর্যাপ্ত টিকা না দেয়ার কারণেই তৈরি হয়েছে বিপর্যয়কর এই পরিস্থিতি।
সংক্রমণের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। খোদ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাবধান করছে, পরিস্থিতি আরো করুণ হতে পারে। এই যখন অবস্থা তখন সরকার ঈদ উপলক্ষে সবকিছু সচলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বলা হয়েছে, ঈদের পর ২৩শে জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট ফের কঠোর লকডাউন। যেন করোনাকে ঈদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ঈদ পর্যন্ত সে রয়েসয়ে যাবে। খ্যাতিমান চিকিৎসক লেলিন চৌধুরী প্রশ্ন রেখেছেন, এ ধরনের ‘যুদ্ধবিরতি’ কি করোনা ভাইরাস মেনে চলবে?
তবে এটাও সত্য, ঈদের সময় লকডাউন দেয়া থাকলেও তা কার্যকর থাকা নিয়ে সংশয় রয়ে যেতো। কোরবানির পশুরহাটে যাওয়াতসহ নানা কারণেই মানুষের জন্য লকডাউন মেনে চলা কঠিন হতো। এমনিতেই কঠোর লকডাউন অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ তাদের জীবিকার প্রয়োজনে বের হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার ঘুরতেও বের হচ্ছেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটাইতো শেষ ঈদ নয়। বেঁচে থাকলে আরও ঈদ আসবে। করোনার এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে বিকল্প চিন্তা করা উচিত ছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক রুমী আহমেদ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক স্ট্যাটাসে লকডাউন শিথিলের যৌক্তিতা অনেকটাই মেনে নেন। কিন্তু পরিস্থিতি ভয়ঙ্করভাবে নাজুক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি ভবিষ্যতের যে সম্ভাব্য ছবি দেখিয়েছেন তা সত্যি আতঙ্ক জাগানিয়া। এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করছেন আরও অনেক জনস্বাস্থ্যবিদই।
রেকর্ড সংক্রমণ। কোরবানির ঈদ। জীবিকার লড়াই। টিকার শ্লথগতি। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা। সবমিলিয়ে অনিশ্চিত এক যাত্রা। না জানি পথের শেষে কী আছে। আসুন সবাই প্রার্থনা করি।(দৈনিক মানব জমিন)