• ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

এবারও স্বপ্ন ভঙ্গ, ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে শিরোপা ইতালির ঘরে

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত জুলাই ১১, ২০২১
এবারও স্বপ্ন ভঙ্গ, ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে শিরোপা ইতালির ঘরে

বিবিএন স্পোর্টস ডেস্ক: ওয়েম্বলিতে আবারো ধাক্কা খেলো ইংল্যান্ডের স্বপ্ন। এগিয়ে গিয়েও গোল হজম করলো থ্রি লায়নরা। অতিরিক্ত সময়ে গড়াল ইউরোর ফাইনাল। প্রথম দিকে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচে ফিরে আক্রমণাত্মক ছিলো ইতালি। নব্বই মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়েও কেউ এগিয়ে যেতে না পারায় খেলা গড়ালো টাইব্রেকার।

টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ী হয়েছে ইতালি।

দলে একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে স্পেনকে হারানো দলের উপরই ভরসা রাখেন ইতালি কোচ রবার্তো মানচিনি। ম্যাচ শুরু হবার পর, কিছু বুঝে উঠার আগেই লিড পেয়ে যায় ইংল্যান্ড।

কাইরেন ট্রিপিয়ারের অ্যাসিস্টে ইউরোর ফাইনালের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা লুক শো।

খেলার ৬৭ মিনিটের মাথায় লিওনার্দো বোনুচ্চির দুর্দান্ত গোলে দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরেছে ইতালি। এদিকে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল শুরু হওয়ার দু মিনিটের মাথায় গোল দিয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যান লুক শো। রোববার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় লন্ডনের ওয়েম্বলিতে দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মধ্যে খেলা শুরু হয়েছে।

চার বছর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যানেজার জোসে মোরিনহো বলেছিলেন, লোক শো’র পারফরম্যান্স দারুণ। কিন্তু এটি তার দেহ ও আমার মগজের কাজ। সে আমার সামনেই ছিল। তার জন্য প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছি। কখন ভেতরে যেতে হবে, কখন বিরোধীকে মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু সে যদি অন্য পাশে থাকত, তবে সে একইরকম থাকতো না। এই পর্যায়ে তা সম্ভবও না।

তিনি বলেন, সে এখন বেড়ে উঠেছে। পরিপক্ক। তাকে এখন খেলা ভালো করে বুঝতে হবে। তাকে এগিয়ে যেতে হবে। খেলা বোঝার মতো বয়স তার হয়েছে।

ইউরোর ফাইনালে ওয়েম্বলিতে ৬০ হাজার দর্শকের সামনে মাঠে নেমেই চমক ইংল্যান্ডের। সাউথগ্যাটের ফর্মেশন এদিন চমক দেয় সবাইকে। খেলা শুরুর আগে এমন চমকে হতবাক হয়ে যায় প্রতিপক্ষ ইতালি।

পুরো আসর জুড়ে ৪-২-৩-১ এবং ৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেললেও, এদিন ৩-৪-২-১ ফর্মেশনে মাঠে নামে থ্রি লায়নরা। তবে প্রথাগত ফর্মেশন থেকে বের হননি মানচিনি। ক্ষুরধার মস্তিষ্ক এদিন আর পরীক্ষা-নীরিক্ষায় যাননি একেবারেই। কিন্তু লাভের লাভ হয়নি তাতে কিছুই। ম্যাচের কিক অফ হতেই আনন্দে ভাসে ওয়েম্বলির ভেতরে থাকা ৬০ হাজার সমর্থক। আর বাইরে তো ততক্ষণে হুলস্থুল। খেলা শুরু না হতেই এহেন আচরণে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

দু মিনিটের মাথায় ইতালির জালে বল ঢুকিয়ে দেন লুক শো। ফাইনালে শাকার বদলি হিসেবে খেলতে নামা ট্রিপিয়ারের অ্যাসিস্ট থেকে স্কোর করেন এ লেফট ব্যাক। দলকে গিয়ে দেয়ার পাশাপাশি একতা রেকর্ডও করেন লুক। ইউরোর ইতিহাসে দ্রুততম গোল করেন তিনি।

৬৬ র পর প্রথম কোন ফাইনালে উঠেই এগিয়ে গেলো ইংল্যান্ড। ফুটবল কামিং হোম স্লোগানে মুখর ওয়েম্বলি। আগামীকাল লুক শো’র ২৬তম জন্মদিন। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলে তার জন্মদিনটি দারুণ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে ওয়েম্বলি মাঠে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ও ইতালি। রোববার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় দুই ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মধ্যে এই খেলা শুরু হয়েছে।

ইউরো-২০২০ কাপে জয়ের মধ্য দিয়ে দুদলই তাদের দীর্ঘ দিনের খড়া কাটাতে চাইবে। গ্যারেথ সাউথ গেটের ইংল্যান্ডের প্রত্যাশা, ঘরের মাঠের গোঁড়া দর্শকদের উচ্ছ্বাস তাদেরকে ট্রফি জয়ে সহায়তা করবে।

করোনার প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও দর্শকরা নিজেদের ঘরে আটকে রাখেননি। পুরো মাঠ ভরে গেছে ফুটবল ভক্তে। ইংলিশরা তাদের সেই ‘ইটস কামিং হোম’ বিখ্যাত গানটি মুখে মুখে গাইছেন।

১৯৬৮ সালের পর থেকে কোনো ইউরো কাপে জয়ী হতে পারেনি ইতালি। কিন্তু ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে অন্তত ৩৩টি  ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে আজ্জুরিরা। আর এখন পর্যন্ত কোনো বড় প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ড তাদের হারাতে পারেনি।

বড় টুর্নামেন্টের ১০ ফাইনালে খেলছে তারা। এর মধ্যে ছয়টি বিশ্বকাপ ও চারটি ইউরোর চূড়ান্ত পর্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে দলটির। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তাদের চেয়ে কেবল এগিয়ে আছে জার্মানি, ১৪টি ফাইনাল খেলেছে দলটি।

বিপরীতে ইউরোর ফাইনালে এই প্রথম দেখা গেল ইংল্যান্ডকে। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পরে বড় কোনো টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ম্যাচে তাদের দেখা যায়নি। অর্থাৎ ৫৫ বছর পর বিশ্বকাপ কিংবা ইউরোর মতো বড় প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছে হ্যারি কেনরা।(রানার মিডিয়া)