• ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

ছাতকে বিদেশি ফল চাষে তিনজন কৃষকের সফলতা

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত এপ্রিল ২২, ২০২১
ছাতকে বিদেশি ফল চাষে তিনজন কৃষকের সফলতা

 

আরিফুর রহমান মানিক, ছাতক(সুনামগঞ্জ) থেকে  ::ছাতকে বিদেশি ফল সাম্মাম ও রকমেল চাষ করে তিন জন কৃষক রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। গ্রীষ্মকালীন এসব ফল দেখতে খুবই সুন্দর ও সুস্বাদু। মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় এ ফলের চাষাবাদ করে সফলতা অর্জন করেছেন উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের কালারুকা গ্রামের প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিন, চাঁনপুর গ্রামের বুরহান উদ্দিন ও রাজাপুর গ্রামের এনাম। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে তারা ৪ বিঘা জমিতে সাম্মাম ও রকমেল চাষ করেন। এবছর ওই ফল চাষে তারা আরো সফল হয়েছেন। আর এমনটিই জানিয়েছেন এখানের তিনজন কৃষক। ভবিষ্যতে বৃহৎ আকারে বাণিজ্যিকভাবে এ ফল চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। জানা গেছে, মরু অঞ্চলের মানুষের কাছে এ ফলটি খুবই জনপ্রিয়। ফলটি সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। হলুদ রংয়ের খোসায় আবৃত ফলটির ভেতরের খাদ্য অংশটি অনেকটা আমাদের দেশীয় ফল বাঙ্গির মতো। অন্যটি খোসার অংশ খসখসে ও ভেতরে অংশ হালকা হলুদ এবং বাদামি বর্ণের। এ ফল চাষের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় মঙ্গলবার বিকেলে সাম্মাম ও রকমেল বাগান পরিদর্শনে যান উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান। এখানের কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সাম্মাম ও রকমেলন চাষ শুরু করতে হয়। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অবলম্বন ও নিয়মিত পরিচর্যা করা হলে ফলন ভালো হবে। দুই বা আড়াই মাসেই ফল পরিপক্ক হয়ে উঠে। উপজেলা কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ নিয়ে এ ফল চাষ করছেন তারা। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি সাম্মাম ফলের খুচরা মূল্য ৭৫-৯০ টাকা। রকমেলনের জন্য মাটি থেকে অন্তত ৫ ফুট উচ্চতায় মাচা তৈরি করতে হয়। এ ফল চাষে সূর্য্যের আলো অন্ত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি গাছে ১০-১৫টি ফল ধরে থাকে। ফল বড় হওয়া বা পরিপক্ক হওয়ার আগেই ছিঁড়ে যাতে না পড়ে সে জন্য থলের মতো নেটব্যাগ নিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হয়। উপজেলার অনেকেই এখন ওই ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব চক্রবর্তী বলেন, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ভিটামিনযুক্ত শতকরা ৯৫ ভাগ জলীয় অংশ থাকায় মানব দেহের পুষ্টি চাাহিদা পূরণের পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এ ফল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হােসেন খাঁন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখানে সাম্মান ও রকমেলন চাষ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী ফলন হয়েছে।