• ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

হাটহাজারীতে ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ৪

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত মার্চ ২৬, ২০২১
হাটহাজারীতে ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ৪

ঢাকার বায়তুল মোকাররমে মুসল্লি ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মাদ্রাসার ছাত্ররা শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চারজন মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অনেককে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তাঁদের নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের দিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষ হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিল বের করেন হেফাজতের নেতা-কর্মীরা।

তারা মসজিদ থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ দূরে হাটহাজারী থানায় হামলা করেন। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। তাতেও কাজ না হওয়ায় পরে রাবার বুলেট ও বুলেট নিক্ষেপ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হেফাজত অনুসারীদের পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গের চেষ্টা চালায়।

একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি ছুড়তে শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।

সংঘর্ষের পর হেফাজতের আহত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে রিকশাভ্যানে করে নিরাপদে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এদের একজনের শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল।

হেফাজতের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী বলেন, ‘পুলিশ হেফাজত কর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। আমাদের একাধিক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’

মোদির ঢাকা সফরের প্রতিবাদে হেফাজতের রাজপথে কোনো কর্মসূচি ছিল না। গত ২২ মার্চ তারা ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে নিশ্চিত করে যে, কোনো ধরনের সংঘর্ষে যাচ্ছেন না তারা।

তবে হাটহাজারীতে হেফাজতের কর্মীরা সহিংস হয়ে ওঠে ঢাকায় বায়তুল মোকাররমের সংঘর্ষের ঘটনায়।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় ধর্মভিত্তিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ।

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম থেকে ধর্মভিত্তিক দলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৫০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

এই খবর হাটহাজারী পৌঁছার পর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন হেফাজতের নেতা-কর্মীরা। গত এক দশকে আলোচিত হয়ে ওঠা সংগঠনটির সদরদপ্তর সেখানেই অবস্থিত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •