• ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১লা জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি

ছাতকে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে ধীরগতিতে,জনমনে অসন্তোষ

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত মার্চ ১৪, ২০২১
ছাতকে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে ধীরগতিতে,জনমনে অসন্তোষ

 

ছাতক প্রতিনিধি: ছাতকে ধীরগতিতে চলছে হওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ। বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। বর্ধিত ২য় দফা সময়ের মধ্যেও বাঁধের কাজ শেষ করতে পারেনি গঠিত পিআইসি। হাওর পাড়ের কৃষকদের মতে এখনো বাঁধ নির্মাণ কাজের শতকরা প্রায় ৩৫ ভাগ অসমাপ্ত রয়েছে। বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজে ধীর গতির কারণে শংকিত হয়ে পড়েছেন বিল ও হাওর পাড়ের কৃষকরা। কিছু বাঁধের মাটি ভরাট কাজ শেষ হলেও ড্রেসিং, ঘাস লাগানোসহ অন্যান্য কাজ এখনো বাকি রয়েছে। বাঁধের স্লোপ সঠিক মাপেও হচ্ছে না। এতে বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শেষ হবে দাবী করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী খালিদ হাসান। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ কর্মকর্তার দাবীর সাথে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের বেশ অমিল রয়েছে। নিয়মমাফিক কাজ না হওয়ায় আগাম বন্যায় পানির স্রোতে এসব ফসল রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে কৃষকরা ধারনা করছেন। বাঁধ সংশ্লিষ্ট কৃষকদের মতে, চলমান গতিতে কাজ করলে বাঁধের কাজ শেষ হতে কমপক্ষে আরো দু’ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। কিন্তু ২-৪ দিনের মধ্যে বাঁধের কাজ সমাপ্ত না হলে বৃষ্টির কবলে পড়তে পারে নির্মানাধীন বাঁধগুলো। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ছাতকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে চলতি বছরে প্রায় ২ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ১৮টি পিআইসির অনূকুলে দেয়া সরকারী বরাদ্দে পুরনো বাঁধ সংস্কার, মাটি ভরাট, গর্ত ভরাট, ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরন, ড্রেসিং করা, ঘাস লাগানোসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় করা হবে। হাওর পাড়ের একাধিক কৃষক জানান, বাঁধ নির্মাণের নামে প্রতিবছরই সরকারের টাকা লুটপাট ও ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে। চলতি বছরে ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের চাউলীর হাওর, ডেকার হাওর, মাছুখাল, তারাপুর খাল, কুড়িবিল, লক্ষণসোম কান্দি, মোঘলগাঁও, বাগারাই, দেবেরগাঁও, চরমহল্লা ইউনিয়নের চানপুর ও কামরাঙ্গি এবং নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর ও মির্জাখাল সহ বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ গঠিত ১৮টি পিআইসির হাতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় চরমহল্লা, জাউয়া ও নোয়ারাই ইউনিয়নের কয়েকটি বাঁধের নির্ধারিত ভাঙ্গা বন্ধকরন ও মেরামত কাজ ধীরগতিতে চলমান রয়েছে। চাঁনপুর বাঁধের নির্মাণ কাজ এখনো শতকরা ৩০ ভাগ বাকি রয়েছে। কয়েকজন শ্রমিক মাটি ভরাটের কাজ করছেন। এসময় দু’জন লোককে ঘাস লাগাতেও দেখা গেছে। এ পিআইসি’র সভাপতি শাহাব উদ্দিন দাবী করেন, বাঁধের কাজ প্রায় সমাপ্ত হয়েছে। ১৮নং পিআইসি’র সদস্য সচিব আবুল কাশেম কবীর বলেন, ডেকার হাওরের ডুবন্ত বাঁধ মেরামতে ১৪ লাখ ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। বাঁধ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। ড্রেসিং ও ঘাস লাগানো চলছে। ১নং পিআইসি’র সভাপতি আব্দুল হক জানান নাইন্দার হাওরে ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরন কাজে ১০ লাখ ৯৪ হাজার টাকার বরাদ্দ রয়েছে। বাঁধ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ৫নং পিআইসি’র চাউলির হাওরে ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরন ও মেরামতের জন্য প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকার কাজ চলছে। এখানেও মাটি ভরাট কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিআইসি’র সভাপতি নুরুজ্জামান। ড্রেসিং ও ঘাস লাগাতে আরও কয়দিন সময় লাগতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী খালিদ হাসান জানান, গত শুক্রবার নির্বাহী প্রকৌশলী চাউলির হাওর ও ডেকার হাওরের বেশ কয়েকটি বাঁধের কাজ পরির্দশন করে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে সকল পিআইসি’র কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পিআইসি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মামুনুর রহমান বলেন, হাওর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পিআইসিকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। এখানে পিআইসি’র ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধ নির্মান কাজে নিয়মিত মনিটরিং এর পাশাপাশি দ্রুত কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।