• ২৯শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

স্মৃতি কথা:বাবার মৃত্যুবার্ষিকী,অসহনীয় বেদনা!

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১
স্মৃতি কথা:বাবার মৃত্যুবার্ষিকী,অসহনীয় বেদনা!

 

এম এ কাইয়ুম: আল্লহুম্মা ওয়া-কুর রাব্বিরহা মুমা কা-মা রাব্বিইয়ানী ছা-গীরা ।

(হে আল্লাহ-তোমি আমার মা বাবাকে
এভাবে মাফ করে দাও,যেভাবে তারা আমাকে ছোটকালে লালন পালন করেছিলেন )

আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমার ওপরিবারের কাছে স্বজন হারানো কস্ট ও
বেদনার দিন। ২০১৩ সালের দিনে আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা আলহাজ্ব আব্দুল
কুদ্দুস আমাদের পরিবারের সকলকে কাদিয়ে এতিম করে এ পৃথিবী থেকে মহান সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে ছাতক পৌরসভার
৯নং ওয়ার্ডে তাতিকোনা মহল্লার নিজ বাসভবনে চিরবিদায় নেন।
বিশেষ করে আমার কাছে এ দিনটি অতি বেদনার দিন। কেননা আমি আমার বাবাকে শেষ বিদায় দিতে পারিনি।আমি তখন লন্ডন অলগেইটের কিংওয়ার্ড হাউজে থাকতাম। আমার বাবা দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ থাকলে টেলিফোনে কথা বলতাম। আমার বাবা মারা যাওয়ার আগের দিন আমার স্ত্রীর শরীরটা
ভাল না থাকায় তাকে নর্থ লন্ডনের বোনের
বাসায় দিয়ে আসি।বাবা মারা যান ২৪
ফেব্রুয়ারি সকালে ইন্তেকালের খবর আসে আমার স্ত্রীর কাছে। আমার স্ত্রী সকাল আনুমানিক ৭ টায় মোবাইলে কল করতে থাকেন,আমার মোবাইলটি সাইলেন্স থাকায় আমি কল বুঝতে পারিনি। এ দিন
আমি ঘরে একা ছিলাম,আমার স্ত্রী
কল করতে অস্থির হয়ে ঘন্টাখানেক পরে আমার ভায়রা ভাই এর বাসা থেকে তার
কারে করে আমার বাসায় এসে এসে দরজা জোরে জোরে নক করতে করতে আমার ঘুম ভেঙ্গে দরজা খুলে তাকে কান্নারত দেখে বুঝতে বাকী থাকেনাকোন এক দুসংবাদের।ঐদিন সকালে আমার মনে হয়েছিল চিরদিনের
জন্য আমার মাথার ছায়া চলে গেছে এবং আমার শ্রদ্ধেয় বাবার আদর ও ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলাম।অনেকক্ষণ চোখের পানি ধরে পারিনি আমিও আমার স্ত্রী হাউমাউ করে কেদেছি। আত্মীয় স্বজনরা
শান্তনা দেওয়ার চেস্ট করেছেন ।
উল্লেখ্য আমার মরহুম বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধের পক্ষের এক অকোতভয় সৈনিক ।আমার বাবা ছিলেন সফল চুনাপাথর ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসার কারণে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রমন করতেন। প্রায়ই বাড়ীতে ফিরতেন রাতে।সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে আমাদের ভাইবোনদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুইট ও ফল উপহার প্রদান করতেন।আমাদের চোখে মুখে তখন কিযে যে প্রাপ্তির আনন্দ।
বাবা ছিলেন এলাকার একজন সৎসাহসী সালিশ ব্যাক্তিত্ব।এলাকায় কোন ধরণের ঝগড়া বিবাদ হলে বাবা সেটি সমাধানে কারো তোয়াক্ষা না আগেই এগিয়ে যেতেন।আমার মনে পড়ে অন্য দুইপক্ষের তুমুল ঝগড়া থামাতে গিয়ে দুইপক্ষের পাথর ছুড়াছুড়িতে বাবার কয়েকটি দাতভেঙ্গে যায়। এরপর
বাবা পরোপকার থেকে কখন
ও বিরত থাকেননি।

আরেকটি বিষয় আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে ফজরেরর নামায না পড়লে খুবই রাগন্বিত হতেন। এজন্য আমাদের প্রতিনিয়ত জোর তাগাদা দিতেন।
আরো কতো স্মৃতি মনে পড়ছে-চোখের জলে পানি ভাসছে ।কোনকিছু লিখতে আর ভাল
লাগছেনা।
মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে করজোর প্রার্থনা হে পরওয়ারদিগার দয়াকরে আমার জন্মদাতা পিতার জীবনের সকল ভূলভ্রান্তি ক্ষমা করে দিয়ে বাবাকে যেন জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান প্রদান করেন।প্রার্থনা করি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে সুস্থ রাখেন এবং নেকহায়াত প্রদান করেন।সকলের কাছে অনুরোধ
দয়াকরে সকলে আমার মরহুম পিতার জন্য দোয়া করবেন।

লেখক:চিফ এডিটর ইউকেবিডি টাইমস

কমিউনিকেশন সেক্রেটারি, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব।