• ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

লন্ডনের দ্বিতীয় ভাষা বাংলা, আসলেই কি?

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১
লন্ডনের দ্বিতীয় ভাষা বাংলা, আসলেই কি?

সম্পাদকীয়

‘সিটি লিট’ নামের একটি ব্রিটিশ সাংস্কৃতিক সংগঠনের একটি জরিপে বলা হয়, লন্ডনের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ভাষার মধ্যে বাংলার অবস্থান দ্বিতীয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এই জরিপের জের ধরে সংবাদমধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় শোরগোল।

এই খবর যুগান্তরের শিরোনাম পায়, লন্ডনে দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদা পেল ‘বাংলা’

বলা হয়, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ইংরেজির পরই যে ভাষা সবচেয়ে বেশি বলা হয় তা হচ্ছে বাংলা। অর্থাৎ লন্ডনে দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেল ‘বাংলা’। বাংলার পরে পোলিশ এবং তুর্কি ভাষা প্রচলিত।

সিটি লিটের জরিপের বরাত দিয়ে কালেরকণ্ঠে ছাপা হয়, লন্ডনের ৮ শতাংশ মানুষ ইংরেজির পাশাপাশি দ্বিতীয় অন্য ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারে। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে বাংলা ভাষা। লন্ডনের ৭১ হাজার ৬০৯ জন বাসিন্দা তাদের প্রধান ভাষা হিসেবে বাংলায় কথা বলেন। লন্ডনের ক্যামডেনের ৩ শতাংশ, নিউহ্যামের ৭ শতাংশ এবং টাওয়ার হ্যামলেটের ১৮ শতাংশ বাসিন্দা প্রথম ভাষা হিসেবে বাংলাকে ব্যবহার করেন।

কিন্তু এ নিয়ে বিবিসির তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য। রিয়েলিটি চেক করে বিবিসি জানতে পারে ওই জরিপে লন্ডনের কেবল তিনটি এলাকার বাংলা ব্যবহারকারীদের সংখ্যা হিসেব করেছে। এদিকে লন্ডনের সামান্য কিছু অঞ্চল যেমন ক্যামডেন, নিউহ্যাম এবং টাওয়ার হ্যামলেটসে ‘বাংলা’ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি থাকায় সেখানে এটি দ্বিতীয় ভাষা, কিন্তু পুরো লন্ডনের দ্বিতীয় ভাষা বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া বাংলা ভাষা যারা বলেন তাদের মধ্যে সিলেট অঞ্চলের কথনরীতির (সিলেটি) প্রচলনও দেখা যায়।

সিটি লিট মূলত ২০১১ সালে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের ‘অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস’ (ওএনএস)-এর একটি জরিপের উপর ভিত্তি করে তাদের গবেষণাটি করেছে। কিন্তু তারা ওই জরিপের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমলে নেয়নি।  বাংলার পরে যেসব ভাষা বেশি ব্যবহৃত হয় সেগুলো বাদ গেছে। যেমন, ক্যামডেনে বসবাসকারী ২ লাখ ১২ হাজারের মতো মানুষের মধ্যে বাংলা ব্যবহার করেন প্রায় সাড়ে ছয় হাজার লোক আর ফ্রেঞ্চ ব্যবহার করেন চার হাজারের বেশি মানুষ।

বাংলার অবস্থান আসলে কোথায়?

ওএনএস এর ডেটা অনুযায়ী, মাত্র তিনটি ডিস্ট্রিক্টে বাংলা ভাষার ব্যবহার বেশি। সেগুলো হলো: ক্যামডেন, নিউহ্যাম এবং টাওয়ার হ্যামলেটস।

পুরো লন্ডনের ৭৮ লাখ নয় হাজার লোকের (তিন বছর বা তার বেশি বয়সী)-এর মধ্যে এক লাখ ১৪ হাজারের মতো মানুষ বাংলা ব্যবহার করেন।

আর ইংল্যান্ড এবং ওয়েলেসের পাঁচ কোটি ৩৯ লাখ জনের মধ্যে বাংলা ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র দু্‌ই লাখ ২১ হাজার।

যে সরকারি জরিপের ভিত্তিতে এই গবেষণাটি করা হয়েছে সেটি আসলে প্রায় ১০ বছরের পুরনো। এতোদিনে ভাষা ব্যবহারকারীর এই হিসেব পরিবর্তন হয়েছে। ২০২১ সালে নতুন করে এই জরিপ হওয়ার কথা জানিয়েছিল বিবিসি। নতুন জরিপের ফলাফল হাতে এলে হয়ত একটা ধারণা পাওয়া যাবে।

লন্ডনে বাংলা ভাষার অবস্থান নিয়ে ২০১৯ সালের এই বিতর্ক মাঝখানের সময়টা থেমে থাকলেও ফেব্রুয়ারি মাস শুরু হতেই আবার উদয় হয় সামাজিক মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি ঘনিয়ে আসতেই তর্ক-বিতর্ক না ঘেটে পুরনো নিউজগুলো ফেসবুক-টুইটারে শেয়ার করেন অনেকে। লন্ডনের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলা নিয়ে ফেসবুকে গর্ব প্রকাশ করা লোকদের আসলে দোষ দেওয়া যায় না। বড় বড় সংস্থাগুলো কি করে জরিপ চালিয়েছে সেটা নিয়ে সাধারণ মানুষ কেন মাথা ঘামাবে?

লন্ডনের দ্বিতীয় ভাষা বাংলা না হলেও দুঃখের কিছু নেই। মাতৃভাষার বিবেচনায় বিশ্বে বাংলার স্থান পঞ্চম।  ভাষার গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট এথনোলগের ২০২০ সালের ২২তম সংস্করণের পরিসংখ্যান আমাদের জানাচ্ছে, পৃথিবীজুড়ে মোট বাংলাভাষীদের সংখ্যা প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখের (ভাষা–গবেষকদের ধারণা প্রায় ২৮ কোটি) কিছু বেশি। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে।(টিভিথ্রি )

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •