• ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়ালের তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা, অনুমোদনে দেরি হতে পারে

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত নভেম্বর ২৭, ২০২০
অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়ালের তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা, অনুমোদনে দেরি হতে পারে

বিবিএন নিউজ ডেস্ক: কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি টিকা আনার খবর দিয়ে দুনিয়ার তাবৎ গণমাধ্যমের শিরোনামে স্থান করে নেওয়ার কয়েকদিন পর অ্যাস্ট্রাজেনেকা তাদের টিকার সাফল্যের হার নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টিকাটির দ্রুত অনুমোদন কষ্টকর হয়ে পড়বে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বেচ্ছাসেবকদের একাংশকে একটি ডোজ দেওয়ার পর আরেকটি পূর্ণাঙ্গ ডোজ না দিয়ে ভুল করে অর্ধেক ডোজ দেওয়ার পর টিকার সাফল্যের হার ৯০% পাওয়ায় টিকাটির সত্যিকারের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে অনেক বিজ্ঞানীই প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

“আমাদের ট্রায়ালের সম্পূর্ণ তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলো এই ফলকে কিভাবে দেখে,” বলেছেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিনের অধ্যাপক পিটার ওপেনশ’।

টিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলোর পর্যালোচনার ফল ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে বলেও ধারণা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওষুধনির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা এক ঘোষণায় অক্সফোর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে বানানো তাদের পরীক্ষামূলক কোভিড-১৯ টিকার ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যে করা চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলে গড়ে ৭০ শতাংশ সফলতার কথা জানায়।

এর মধ্যে বেশিরভাগ স্বেচ্ছাসেবককে দুটি পূর্ণাঙ্গ ডোজ দেওয়া হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে টিকাটির সাফল্য ৬২ শতাংশ। আর যে খুব ছোট অংশকে ভুল করে দেড় ডোজ দেওয়া হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে সাফল্যের হার পাওয়া যায় চোখ ধাঁধানো, ৯০ শতাংশ।

এই ফলাফল নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। বলা হচ্ছে, যেখানে দুটি পূর্ণাঙ্গ ডোজ দিচ্ছে ৬২ শতাংশ সফলতা, সেখানে ভুল করে যাদের দেড় ডোজ দেওয়া হল, তাদের সাফল্য কীভাবে ৯০ শতাংশ হয়? ভুল করে যে অর্ধেক ডোজ দেওয়া হয়েছিল, তা কেন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পূর্ণাঙ্গ ডোজের চেয়েও বেশি বাড়িয়ে দেয়?

গবেষকরা এজন্য এখন অক্সফোর্ডের টিকার চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালের সম্পূর্ণ তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছেন।

বিভ্রান্তি এড়াতে অ্যাস্ট্রাজেনেকাও নতুন ট্রায়ালের চিন্তাভাবনা করছে।

নিয়ম অনুযায়ী, টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ট্রায়ালের পূর্ণাঙ্গ ফল মেডিকেল জার্নালে প্রকাশ করে পর্যালোচনার জন্য দিতে হয়। এর মধ্যেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের টিকার জরুরি অনুমোদনের জন্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলোর অনুমোদন পেতে কোনো টিকাকে অবশ্যই ন্যূনতম ৫০ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হতে হবে।

ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত কোভিড টিকার অনুমোদনের ক্ষেত্রে সফলতার কোনো ন্যূনতম মানদণ্ড ঠিক করেনি।

এসব বিবেচনায় অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন পেতে কোনো ঝামেলা হওয়ার কথা না থাকলেও তাদের ট্রায়ালের ফলের ব্যাপক পর্যালোচনার আগে টিকাটির জরুরি অনুমোদন মিলছে না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।(ওয়ান বাংলা)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •