• ১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

বাইডেনকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন,দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত নভেম্বর ৮, ২০২০
বাইডেনকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন,দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা

 

বিবিএন নিউজ ডেস্ক: ইতিহাস গড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অভিনন্দন বার্তায় প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে দু’দেশের সম্পর্ক আগামীদিনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ সম্পর্কের ক্ষেত্রগুলোও সম্প্রসারিত হবে। আবদুল হামিদ প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট কমালার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। উল্লেখ্য, রিপাবলিকান প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ডেমোক্রেট প্রার্থী প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। একই সঙ্গে তার রানিং মেট হিসেবে থাকা কমালা হ্যারিসও প্রথম নারী, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে দেশটির সমৃদ্ধ গণতন্ত্রে নতুন পালক যুক্ত করেছেন। জো বাইডেন বরাবর পাঠানো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ৩রা নভেম্বরের বহুল আলোচিত ওই নির্বাচনে বিশাল জয় পাওয়া বাইডেনের প্রতি বাংলাদেশ সরকার, জনগণ এবং ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা আন্তরিক অভিবাদন জ্ঞাপন করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে, আমি আপনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।

সন্ত্রাসবাদ, হিংস্রতা, উগ্রবাদ, বিদ্বেষ এবং রোহিঙ্গাদের মতো বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনাগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলার মধ্য দিয়ে একটি উন্নত ও টেকসই বিশ্ব তৈরিতে আমরা কাজ করতে চাই। জো বাইডেন আগামী ২০শে জানুয়ারি ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন। আগাম অভিনন্দন বার্তায় বাইডেনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার প্রধান লিখেন- আমি বিশ্বাস করি আপনার দুর্দান্ত এই জয় যুক্তরাষ্ট্র ও এর জনগণের কল্যাণে গত চার দশকে আপনার নিষ্ঠা ও অসাধারণ নেতৃত্বের গভীরতম প্রতিফলন। আমি আরো বিশ্বাস করি, জো বাইডেন তার প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা দিয়ে বিশ্বকে শান্তির নতুন যুগে পৌঁছাতে নেতৃত্ব দেবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সমৃদ্ধি অর্জন ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ অত্যন্ত চমৎকার এবং টেকসই সম্পর্ক তৈরি করেছে। আমি মনে করি, দেশটির শীর্ষস্থানে আপনি (জো বাইডেন) থাকায় আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছাবে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফার্স্ট লেডি ড. জিল বাইডেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজ প্রচেষ্টা, জনগণের সামর্থ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো বন্ধুদের সমর্থন পেয়ে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে যে অগ্রগতি সাধন করেছে তা পরিদর্শন ও অভিজ্ঞতার জন্য আমি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাইডেন ও তার পরিবারের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখ কামনা করেন এবং বন্ধুবৎসল যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
ভাইস প্রেসিডেন্টকেও অভিনন্দন: এদিকে নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস বরাবর পাঠানো পৃথক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রথমবারের মতো একজন নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য এক বিশেষ গর্বের বিষয়। এ জয় অবশ্যই আপনার প্রশংসিত নেতৃত্ব, জনসেবা খাতে রাখা অসাধারণ কৃতিত্ব এবং মহান দেশ ও জনগণের প্রতি আপনার মূল্যবান অবদানের স্বীকৃতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি আপনার মেয়াদকালে মানুষের জন্য সমান অধিকার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আপনার নিরলস প্রচেষ্টা ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তথা সারা বিশ্ব লিঙ্গ সমতা, নারীদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে শক্তি ও চালিত করার সাক্ষী হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক দীর্ঘ সময়ে এক স্থায়ী, উৎপাদনশীল অংশীদারিত্বের বিকাশ ও গভীর হয়েছে। তিনি বলেন, এখন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার প্রতিফলনে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক ঈর্ষণীয় উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তার স্বামী ডগলাস এমহফকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং নারী ক্ষমতায়নের অসাধারণ বিষয়টি দেখার জন্য তিনি এ আমন্ত্রণ জানান। তিনি তার নিজের এবং পরিবারের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখ এবং বন্ধুভাবাপন্ন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •