• ১৬ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১লা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বিক্ষুদ্ধ সিলেটের টেলিভিশন সাংবাদিকরা

bilatbanglanews.com
প্রকাশিত অক্টোবর ২২, ২০২০
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বিক্ষুদ্ধ সিলেটের টেলিভিশন সাংবাদিকরা

সিলেট প্রতিনিধিঃ  সিলেটে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের একটি বক্তব্যকে ঘিরে সিলেটের টেলিভিশন সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্যটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের (ইমজা) পক্ষ থেকে বলা হয়, সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হানের বাড়িতে গত ২০ অক্টোবর যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে নিহতের পরিবারকে সান্তনা ও সুবিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এসময় টেলিভিশন সাংবাদিকরা সিলেট মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ব্যর্থতার কথা তুলে ধরলে তা অস্বীকার করে পুলিশের পক্ষেই সাফাই দেন মন্ত্রী। এক পর্যায়ে মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ফাঁড়িতে কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন থানায় ঘুরেফিরে একই কর্মকর্তার পদায়নের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিরক্তি প্রকাশ করে মন্ত্রী প্রশ্নকারী সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি ফেরশতা? আপনার সাথের সবাই কি ফেরেশতা?’ মন্ত্রীর এমন প্রশ্নে হতাশ ও অবাক হন সাংবাদিকরা।

ঘটনার দিন নিহতের বাড়িতে মানবিক কারণে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করলেও ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েন (ইমজা), সিলেট কার্যালয়ে সভায় বসেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। সভায় সাংবাদিকরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন অজ্ঞাত কারণে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন এবং এমন একটি হত্যকাণ্ডের পরও পুলিশের ব্যর্থতা অস্বীকার করে বক্তব্য দেন। উপরন্তু সাংবাদিকদের প্রশ্নের সঠিক জবাব না দিয়ে প্রকারান্তরে পুলিশের অপরাধি ও দুর্নীতিতে জড়িত সদস্যদের আস্কারা দেন এবং সাংবাদিকদের চরিত্র হনন করেন।

ইমজার সভাপতি মাহববুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সজল ছত্রীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তারা সিলেট মহানগর পুলিশের দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সময় টিভির সিলেট ব্যুরো প্রধান ইকরামুল কবির, দেশটিভির বিভাগীয় প্রতিনিধি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, চ্যানেল এস ইউকের চীফ রিপোর্টার মঈন উদ্দিন মনজু, এনটিভি সিলেটের স্টাফ ক্যামেরাপারসন আনিস রহমান, চ্যানেল এস ইউকের চীফ ক্যামেরাপারসন লিটন চৌধুরী, দেশ টিভির ক্যামেরাপারসন আশরাফুল কবির, ইমজার সিনিয়র সদস্য এস সুটন সিংহ, বাংলা টিভির ক্যামেরাপারসন এস আলম আলমগীর, এনটিভির সিলেট প্রতিনিধি মারুফ আহমদ, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার গোলজার আহমদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির স্টাফ ক্যামেরাপারসন গোপাল বর্ধন, মোহনা টিভির ক্যামেরাপারসন শামীম হোসেন, যমুনা টিভির স্টাফ ক্যামেরাপারসন নিরানন্দ পাল, নিউজ টুয়েন্টিফোরের ক্যামেরাপারসন শফি আহমদ, এটিএননিউজের ক্যামেরাপারসন অনিল পাল, যমুন টিভির স্টাফ রিপোর্টার মাইদুল ইসলাম রাসেল, মাছরাঙা টেলিভিশনের স্টাফ ক্যামেরাপারসন শুভ্র দাস, আরটিভির সিলেটে প্রতিনিধি হোসাইন আহমদ সুজাত, ডিবিসির ক্যামেরাপারসন হাসান শিকদার সেলিম, চ্যানেল এসের ক্যামেরাপারসন মাহমুদুর রহমান মিলন প্রমুখ।